বিগত এক দশকে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় এক লাখ ১৬ হাজার ৭২৬ জন নিহত ও এক লাখ ৬৫ হাজার ২১ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই তথ্য জানিয়ে দেশজুড়ে সড়কে “গণহত্যা” চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে।
সংস্থার মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সড়কে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য সরকারী দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অসংগঠিত পরিবহন ব্যবস্থাকেই দায়ী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দাতা সংস্থার প্রণীত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সড়কে যাতায়াতের চাপ বাড়ানো হলেও সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা তৈরি হয়নি।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, “ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেল ও নসিমন-করিমন ব্যবহার বেড়েছে, ফলে যানজট ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের ব্যর্থ নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সড়কে প্রাণহানি রোধ করা যাচ্ছে না।”
১২ দফা সুপারিশ
সংস্থাটি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ১২ দফা সুপারিশ দিয়েছে:
১. হারিয়ে যাওয়া নৌ ও রেলপথ পুনঃব্যবহার করে সমন্বিত যাতায়াত নেটওয়ার্ক তৈরি।
২. চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে পরিবহনখাত সংস্কার।
৩. ঢাকা-চট্টগ্রামসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সরকারি উদ্যোগে ম্যাস ট্রানজিট ব্যবস্থা।
৪. ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে র্যাপিড ট্রানজিট লেন চালু।
৫. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসম্পন্ন বাস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।
৬. মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আমদানি ও বিপণন নিয়ন্ত্রণ।
৭. চালকদের রাষ্ট্রীয় প্রশিক্ষণ ও উন্নত কারিকুলাম।
৮. ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম ডিজিটাল করা।
৯. সড়ক দুর্ঘটনার মামলা সরকারি উদ্যোগে পরিচালনা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
১০. যাত্রী ও ভুক্তভোগীর মতামত নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা।
১১. সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
১২. সাইক্লিস্ট ও পথচারীদের জন্য পৃথক লেন এবং নিরাপদ ফুটপাত ব্যবস্থা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শরীফ রফিকুজ্জামান, বারভিডার সভাপতি আবদুল হক, ড্রাইভার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান বাদল আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
রবিউল ইসলাম 












