Hi

০১:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন হুঁশিয়ারি ইসরাইলের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইসরাইল। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরান যেন কখনোই তার পারমাণবিক প্রকল্প পুনরায় সক্রিয় করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ইসরাইলের লক্ষ্য।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পরিচালিত ১২ দিনের সামরিক অভিযানের ছয় মাস পর এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। জেরুজালেমে মোসাদের গোয়েন্দা সদস্যদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বার্নিয়ে এসব কথা বলেন। খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরাইল।

অনুষ্ঠানে মোসাদ প্রধান বলেন, ইসরাইল ধ্বংসের প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া একটি দেশ হিসেবে ইরান এমন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। তার ভাষায়, সামরিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য ছাড়া এর অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। সুযোগ পেলে ইরান দ্রুত সেই পথে অগ্রসর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বার্নিয়ে আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প ইতোমধ্যে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্প যেন আর কখনো সক্রিয় না হয়, তা নিশ্চিত করাই ইসরাইলের দায়িত্ব।

এ সময় তিনি ইরানের ভেতরে পরিচালিত আকস্মিক সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেন। তার মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার ব্যাপক অনুপ্রবেশ এবং তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

মোসাদ প্রধান বলেন, ইরান যে পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং অনুপ্রবেশযোগ্য, তা এক মুহূর্তেই আয়াতুল্লাহদের শাসকগোষ্ঠী বুঝতে পেরেছে। এরপরও তারা ইসরাইল ধ্বংসের লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি।

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন বার্নিয়ে। তার অভিযোগ, ইরান আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করে একটি দুর্বল পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর করতে চাইছে। তবে ইসরাইল এমন কোনো খারাপ চুক্তি হতে দেবে না বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে আসছে। যদিও ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে। তবে বাস্তবে শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের সীমা ছাড়িয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বাধা দেওয়া এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুরুর সময় ইরান পারমাণবিক অস্ত্রায়নের দিকে বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছিল। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত জুন মাসে ইসরাইলি হামলায় তাদের এক হাজারের বেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এর জবাবে ইরান ইসরাইলের দিকে ৫০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় এক হাজার ১০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। ইসরাইলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এসব হামলায় দেশটিতে ৩২ জন নিহত হন এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হন।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন হুঁশিয়ারি ইসরাইলের

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইসরাইল। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরান যেন কখনোই তার পারমাণবিক প্রকল্প পুনরায় সক্রিয় করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ইসরাইলের লক্ষ্য।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পরিচালিত ১২ দিনের সামরিক অভিযানের ছয় মাস পর এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। জেরুজালেমে মোসাদের গোয়েন্দা সদস্যদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বার্নিয়ে এসব কথা বলেন। খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরাইল।

অনুষ্ঠানে মোসাদ প্রধান বলেন, ইসরাইল ধ্বংসের প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া একটি দেশ হিসেবে ইরান এমন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। তার ভাষায়, সামরিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য ছাড়া এর অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। সুযোগ পেলে ইরান দ্রুত সেই পথে অগ্রসর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বার্নিয়ে আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প ইতোমধ্যে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্প যেন আর কখনো সক্রিয় না হয়, তা নিশ্চিত করাই ইসরাইলের দায়িত্ব।

এ সময় তিনি ইরানের ভেতরে পরিচালিত আকস্মিক সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেন। তার মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার ব্যাপক অনুপ্রবেশ এবং তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

মোসাদ প্রধান বলেন, ইরান যে পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং অনুপ্রবেশযোগ্য, তা এক মুহূর্তেই আয়াতুল্লাহদের শাসকগোষ্ঠী বুঝতে পেরেছে। এরপরও তারা ইসরাইল ধ্বংসের লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি।

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন বার্নিয়ে। তার অভিযোগ, ইরান আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করে একটি দুর্বল পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর করতে চাইছে। তবে ইসরাইল এমন কোনো খারাপ চুক্তি হতে দেবে না বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে আসছে। যদিও ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে। তবে বাস্তবে শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের সীমা ছাড়িয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বাধা দেওয়া এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুরুর সময় ইরান পারমাণবিক অস্ত্রায়নের দিকে বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছিল। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত জুন মাসে ইসরাইলি হামলায় তাদের এক হাজারের বেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এর জবাবে ইরান ইসরাইলের দিকে ৫০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় এক হাজার ১০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। ইসরাইলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এসব হামলায় দেশটিতে ৩২ জন নিহত হন এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হন।