Hi

০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ বছর পর ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনা তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা নিয়ে তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে জানা গেছে, গুমের পর তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও হত্যার অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট হয়েছে যে ইলিয়াস আলীকে তুলে নেওয়ার পর তাকে হত্যা করা হয়।

প্রসঙ্গত, আজ থেকে প্রায় ১৩ বছর আগে রাজধানী ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন সিলেটের জনপ্রিয় বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বনানীতে নিজ বাসার কাছ থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর থেকে দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এ বিষয়ে কোনো কার্যকর তথ্য প্রকাশ না করে ঘটনাটিকে ‘নাটক’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একশর বেশি মানুষকে গুম করার পর হত্যার অভিযোগ রয়েছে। গুম-খুনের এসব ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

ইলিয়াস আলী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিলেট-২ আসন থেকে তিনি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এলাকায় একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানে ইলিয়াস আলীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম করার ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তার ভাষায়, ‘ইলিয়াস আলীকে রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হয়, এরপর তাকে গুম করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে হত্যা করা হয়েছে—এমন তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম ও খুনের ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু হয়।

এই তদন্তে গুম-খুনের অন্যতম ‘কুশীলব’ হিসেবে র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের নাম উঠে আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি সেনাবাহিনীর চাকরি হারান এবং পরবর্তীতে গ্রেফতার হন।

ট্রাইব্যুনালের তদন্তে ইলিয়াস আলীর ভাগ্যে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে দীর্ঘদিনের অজানা অধ্যায়ের পর্দা উন্মোচিত হতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

১৩ বছর পর ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনা তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০২:২৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা নিয়ে তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে জানা গেছে, গুমের পর তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও হত্যার অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট হয়েছে যে ইলিয়াস আলীকে তুলে নেওয়ার পর তাকে হত্যা করা হয়।

প্রসঙ্গত, আজ থেকে প্রায় ১৩ বছর আগে রাজধানী ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন সিলেটের জনপ্রিয় বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বনানীতে নিজ বাসার কাছ থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর থেকে দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এ বিষয়ে কোনো কার্যকর তথ্য প্রকাশ না করে ঘটনাটিকে ‘নাটক’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একশর বেশি মানুষকে গুম করার পর হত্যার অভিযোগ রয়েছে। গুম-খুনের এসব ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

ইলিয়াস আলী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিলেট-২ আসন থেকে তিনি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এলাকায় একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানে ইলিয়াস আলীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম করার ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তার ভাষায়, ‘ইলিয়াস আলীকে রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হয়, এরপর তাকে গুম করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে হত্যা করা হয়েছে—এমন তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম ও খুনের ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু হয়।

এই তদন্তে গুম-খুনের অন্যতম ‘কুশীলব’ হিসেবে র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের নাম উঠে আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি সেনাবাহিনীর চাকরি হারান এবং পরবর্তীতে গ্রেফতার হন।

ট্রাইব্যুনালের তদন্তে ইলিয়াস আলীর ভাগ্যে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে দীর্ঘদিনের অজানা অধ্যায়ের পর্দা উন্মোচিত হতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা।