‘মৃত্যুর ফয়সালা জমিনে নয়, আসমানে হয়। আমি চলে গেলে আমার সন্তান লড়বে, তার সন্তান লড়বে। যুগ থেকে যুগান্তরে আজাদির সন্তানেরা স্বাধীনতার পতাকা সমুন্নত রাখবেই। মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।’ চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চও একই রাতে, রাত ৯টা ৪৬ মিনিটে তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
এর আগে গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর, এবং হাদির ভাই ওমর বিন হাদির মধ্যে এক জরুরি কল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে নিরাপদে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকরা হাদির মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তার পরিবার ওই অস্ত্রোপচারের অনুমতি দেয়।
ওই দিন ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক এডমিন পোস্টে জানানো হয়, তিনি তখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরেই অপারেশনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, যদি ওসমান হাদি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে শহীদের কাতারে শামিল হন, তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মজলুম জনতাকে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতকরণের দাবিতে শাহবাগে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হবে। খুনিদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণাও দেওয়া হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা যদি ভারতে পালিয়ে যায়, তবে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে যেকোনো মূল্যে তাদের গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হবে।
এর আগে বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়েছিল, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ রিপোর্ট 







