Hi

০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটি টাকার মিশনে হাদি হত্যাচেষ্টা, মাঠে একাধিক শুটার গ্রুপ

জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত ও কোটি টাকা মূল্যের একটি মিশন। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদপুর এলাকার এক সাবেক কাউন্সিলর। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন ধাপে কাজ করেছে। অর্থ জোগান, অস্ত্র সংগ্রহ, শুটারদের চলাচল, পালানোর ব্যবস্থা এবং সীমান্ত পারাপার—সবকিছুই ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার পরপরই শুটারদের দ্রুত পালিয়ে যেতে কয়েক ধাপে যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন করা হয় এবং সীমান্ত এলাকায় সহায়তাকারীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

এই ঘটনার পর পুলিশ ধারণা করছে, মাঠে আরও একাধিক শুটার গ্রুপ সক্রিয় থাকতে পারে। সে কারণে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা একযোগে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্তে মাঠে নেমেছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুটার ফয়সালের বাসা থেকে উদ্ধার করা বেশ কিছু চেকে তার স্বাক্ষর রয়েছে। এসব চেক যাচাই-বাছাই করে অর্থ লেনদেনের প্রকৃত উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সালের বোনের বাসার নিচ থেকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, এগুলো বোনের বাসা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া নরসিংদীর সদর উপজেলার তরুয়া এলাকার মোল্লার বাড়ির সামনে তরুয়ার বিলে পানির ভেতর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, একটি খেলনা পিস্তল ও ৪১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়, যেগুলো হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল।

এ ঘটনায় শুটার ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ও মা মোসাম্মাৎ হাসি বেগমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩। পরে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে তাদের গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হাদি হত্যাচেষ্টায় এখন পর্যন্ত র‌্যাব ও পুলিশ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন—ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের কথিত মালিক আবদুল হান্নান, সীমান্ত এলাকায় মানব পাচারে জড়িত সন্দেহে সঞ্জয় চিসিম ও সিবিরন দিও, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও মোটরসাইকেলের মূল মালিক মো. কবির এবং তার বাবা-মা।

এর মধ্যে আবদুল হান্নানকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সোমবার ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আর মো. কবিরকে দেওয়া হয়েছে সাত দিনের রিমান্ড। আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন সহযোগী বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।

ডিএমপির পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কার কী ভূমিকা ছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তদন্তসূত্র জানায়, রিমান্ডে আসামিদের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। জানা গেছে, কথিত বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা আগে থেকেই হামলার বিষয়টি জানতেন। ঘটনার আগের রাতে ফয়সাল ও আলমগীর সাভারের গ্রিন জোন রিসোর্টের ২০৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন। সেখানে মারিয়াও ছিলেন। ওই রাতে ফয়সাল তাকে বলেন, ‘কাল এমন কিছু হবে, সারা দেশ কাঁপবে।’ শুক্রবার সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে তারা একসঙ্গে রিসোর্ট ছাড়েন এবং মারিয়াকে তিন হাজার টাকা দেন ফয়সাল।

রিসোর্টের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, সিয়াম নামে এক কর্মচারীর মাধ্যমে চার হাজার টাকায় কক্ষটি বুক করা হয়েছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, হামলার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট ছিল ভুয়া। ঘটনার পর ফয়সাল ও আলমগীর আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সালের বোন জেসমিনের বাসায় যান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির। তিনিই মোটরসাইকেলের আসল নম্বর প্লেট লাগিয়ে দেন এবং পালানোর জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করেন। এ ছাড়া ফয়সালের স্ত্রী সামিয়া তার ভাই শিপুর মাধ্যমে বিকাশে মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠান। যদিও সামিয়া দাবি করেছেন, তিনি হামলার বিষয়ে কিছু জানতেন না এবং তিনি ফয়সালের দ্বিতীয় স্ত্রী।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত যাওয়া প্রাইভেট কারের চালক এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরেক চালককেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে, যিনি গাড়িটি ভাড়া করে দেন। তবে ওই চালক মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার মো. কবিরকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত তাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠান।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, কবির আদাবর থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক তিনিই এবং ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন। কবির আদালতে দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি তার বন্ধুর কেনা হলেও তার আইডি কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটি টাকার মিশনে হাদি হত্যাচেষ্টা, মাঠে একাধিক শুটার গ্রুপ

আপডেট সময় : ০৪:১৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত ও কোটি টাকা মূল্যের একটি মিশন। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদপুর এলাকার এক সাবেক কাউন্সিলর। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন ধাপে কাজ করেছে। অর্থ জোগান, অস্ত্র সংগ্রহ, শুটারদের চলাচল, পালানোর ব্যবস্থা এবং সীমান্ত পারাপার—সবকিছুই ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার পরপরই শুটারদের দ্রুত পালিয়ে যেতে কয়েক ধাপে যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন করা হয় এবং সীমান্ত এলাকায় সহায়তাকারীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

এই ঘটনার পর পুলিশ ধারণা করছে, মাঠে আরও একাধিক শুটার গ্রুপ সক্রিয় থাকতে পারে। সে কারণে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা একযোগে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্তে মাঠে নেমেছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুটার ফয়সালের বাসা থেকে উদ্ধার করা বেশ কিছু চেকে তার স্বাক্ষর রয়েছে। এসব চেক যাচাই-বাছাই করে অর্থ লেনদেনের প্রকৃত উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সালের বোনের বাসার নিচ থেকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, এগুলো বোনের বাসা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া নরসিংদীর সদর উপজেলার তরুয়া এলাকার মোল্লার বাড়ির সামনে তরুয়ার বিলে পানির ভেতর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, একটি খেলনা পিস্তল ও ৪১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়, যেগুলো হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল।

এ ঘটনায় শুটার ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ও মা মোসাম্মাৎ হাসি বেগমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩। পরে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে তাদের গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হাদি হত্যাচেষ্টায় এখন পর্যন্ত র‌্যাব ও পুলিশ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন—ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের কথিত মালিক আবদুল হান্নান, সীমান্ত এলাকায় মানব পাচারে জড়িত সন্দেহে সঞ্জয় চিসিম ও সিবিরন দিও, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও মোটরসাইকেলের মূল মালিক মো. কবির এবং তার বাবা-মা।

এর মধ্যে আবদুল হান্নানকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সোমবার ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আর মো. কবিরকে দেওয়া হয়েছে সাত দিনের রিমান্ড। আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন সহযোগী বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।

ডিএমপির পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কার কী ভূমিকা ছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তদন্তসূত্র জানায়, রিমান্ডে আসামিদের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। জানা গেছে, কথিত বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা আগে থেকেই হামলার বিষয়টি জানতেন। ঘটনার আগের রাতে ফয়সাল ও আলমগীর সাভারের গ্রিন জোন রিসোর্টের ২০৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন। সেখানে মারিয়াও ছিলেন। ওই রাতে ফয়সাল তাকে বলেন, ‘কাল এমন কিছু হবে, সারা দেশ কাঁপবে।’ শুক্রবার সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে তারা একসঙ্গে রিসোর্ট ছাড়েন এবং মারিয়াকে তিন হাজার টাকা দেন ফয়সাল।

রিসোর্টের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, সিয়াম নামে এক কর্মচারীর মাধ্যমে চার হাজার টাকায় কক্ষটি বুক করা হয়েছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, হামলার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট ছিল ভুয়া। ঘটনার পর ফয়সাল ও আলমগীর আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সালের বোন জেসমিনের বাসায় যান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির। তিনিই মোটরসাইকেলের আসল নম্বর প্লেট লাগিয়ে দেন এবং পালানোর জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করেন। এ ছাড়া ফয়সালের স্ত্রী সামিয়া তার ভাই শিপুর মাধ্যমে বিকাশে মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠান। যদিও সামিয়া দাবি করেছেন, তিনি হামলার বিষয়ে কিছু জানতেন না এবং তিনি ফয়সালের দ্বিতীয় স্ত্রী।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত যাওয়া প্রাইভেট কারের চালক এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরেক চালককেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে, যিনি গাড়িটি ভাড়া করে দেন। তবে ওই চালক মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার মো. কবিরকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত তাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠান।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, কবির আদাবর থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক তিনিই এবং ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন। কবির আদালতে দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি তার বন্ধুর কেনা হলেও তার আইডি কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।