Hi

০১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম ও খুনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, টিএফআই-জেআইসি সেলে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যা করা হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ দুই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে এক মামলায় ১৭ জন এবং অন্যটিতে ১৩ জন আসামি রয়েছেন। দুটিতেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও রয়েছে। ২৩ জন সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন, বাকিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে আনা সেনা কর্মকর্তারা হলেন—
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, মেজর জেনারেল মোস্তফা সরোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, কর্নেল মশিউল রহমান জুয়েল, লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহম্মেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, লে. কর্নেল মখচুরুল হক (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার এবং কর্নেল কেএম আজাদ।

এর আগে, সকালেই অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের আইনজীবীরা তাদের জামিনের আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করলে ট্রাইব্যুনাল আবেদন নামঞ্জুর করে। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

এদিকে, সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা উপলক্ষে সকাল থেকেই রাজধানীতে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হাইকোর্টের মাজারগেট, কাকরাইল, মৎস্য ভবনসহ ট্রাইব্যুনালসংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম ও খুনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, টিএফআই-জেআইসি সেলে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যা করা হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ দুই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে এক মামলায় ১৭ জন এবং অন্যটিতে ১৩ জন আসামি রয়েছেন। দুটিতেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও রয়েছে। ২৩ জন সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন, বাকিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে আনা সেনা কর্মকর্তারা হলেন—
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, মেজর জেনারেল মোস্তফা সরোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, কর্নেল মশিউল রহমান জুয়েল, লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহম্মেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, লে. কর্নেল মখচুরুল হক (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার এবং কর্নেল কেএম আজাদ।

এর আগে, সকালেই অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের আইনজীবীরা তাদের জামিনের আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করলে ট্রাইব্যুনাল আবেদন নামঞ্জুর করে। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

এদিকে, সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা উপলক্ষে সকাল থেকেই রাজধানীতে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হাইকোর্টের মাজারগেট, কাকরাইল, মৎস্য ভবনসহ ট্রাইব্যুনালসংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়।