প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির পর এবার জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও অভিযোগ উঠেছে সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে। দলটির দাবি, কিছু উপদেষ্টা বিএনপির হয়ে কাজ করছেন এবং প্রধান উপদেষ্টাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন। নির্বাচনের আগে সরকার ও প্রশাসনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এসব উপদেষ্টার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে দলটি আহ্বান জানিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম ও রফিকুল ইসলাম খান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন,
“আমরা বলেছি, আপনার প্রতি আমাদের আস্থা আছে। তবে আপনার পাশে থাকা কিছু লোক আপনাকে বিভ্রান্ত করেন এবং একটি নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ করেন বলে আমরা মনে করি। তাঁদের বিষয়ে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।”
জামায়াতের দাবি, সরকারের প্রশাসন ও পুলিশের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কর্মকর্তা বিএনপির প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছেন। দলটি মনে করে, এ অবস্থায় নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়া কঠিন। তাই নির্বাচনের আগে সচিবালয়, পুলিশ প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনে রদবদল আনার দাবি জানায় তারা।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে জামায়াতের নেতাদের আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের স্বার্থে সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন,
“আমাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কেউ সন্দেহ করতে পারেন না। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা প্রয়োজন, সবই আমরা করব।”
জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, তারা প্রশাসনের বিতর্কিত কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাদের একটি তালিকা প্রধান উপদেষ্টাকে পরে হস্তান্তর করবে। এছাড়া বৈঠকে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, নভেম্বর মাসের শেষের দিকে গণভোট আয়োজন এবং সংবিধানের বাইরে বিশেষ ব্যবস্থার (এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল অ্যারেঞ্জমেন্ট) বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, “আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। উনি বলেছেন, এটি বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এর আগে মঙ্গলবার বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়। বিএনপি কয়েকজন উপদেষ্টাকে দলীয় পক্ষপাতের অভিযোগে সরানোর আহ্বান জানায়। ফলে টানা দুই দিনে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই প্রধান উপদেষ্টার উপদেষ্টামণ্ডলীকে ঘিরে পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে।
মো. লিমন 










