সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতির কারণে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের মাইলোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের মোট ৫১৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪৫০ জন। তবে পরীক্ষার পুরো দায়িত্ব একাই পালন করতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাদা ওসমানীকে।
দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়—অফিসকক্ষে কোনো সহকারী শিক্ষক নেই; কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক। তারা জানান, সকালে কয়েকজন শিক্ষিকা স্কুলে এলেও প্রধান শিক্ষক পরীক্ষা শুরু করার পরপরই তাঁরা চলে যান।
প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাদা ওসমানী বলেন, “সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হোক—এটাই চাই। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা এসেছে। আমার দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার জায়গা থেকে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হোক তা তো চাই না।”
তিনি আরও জানান, প্রাক্তন কয়েকজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অফিস সহায়কের সহযোগিতায় তিনি পাঁচটি শ্রেণির পরীক্ষা পরিচালনা করছেন। একাই সব সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে আসা কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত বড় বিদ্যালয়ের পরীক্ষা একজন শিক্ষক দিয়ে নেওয়া খুবই কষ্টকর। এতে পরীক্ষার মান নষ্ট হচ্ছে এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়ছে।”
এদিকে সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলনের অংশ হিসেবে মোহনগঞ্জের সব স্কুলেই কর্মবিরতি চলছে। আন্দোলনের মোহনগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক ও কাজীয়াটি পালেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান আলম বিপ্লব বলেন, “সরকার দ্রুত তিন দফা দাবি মেনে নিলে এই সংকটের সমাধান হবে। আমরা আশা করছি সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।”
সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি চলায় জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পরীক্ষাসহ স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিভাবকরা জানান।
জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ রিপোর্ট 








