জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের এক বছর তিন মাস পার হলেও অজানা কারণে তিনি দেশে আসছেন না; তবে দেশে ফিরলে তার জন্য কোনো সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এনসিপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এনসিপি মনে করে—অন্য সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সুন্দর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। কেউ যদি কোনো অপ্রত্যাশিত কাজ বা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে, তাহলে কোনো ফ্যাসিস্টবিরোধী রাজনৈতিক দল সেই সুযোগ দেবে না।
সারজিস আলম বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের জন্য নির্বাচন পিছিয়ে যাক, তা তারা চান না। বরং একটি সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। তিনি আরও জানান, এনসিপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষিত আগামী নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে কোনো দ্বিমত বা সন্দেহ রাখে না। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি মনে করেন, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে চিরাচরিত সরল প্রতিযোগিতা এবার থাকবে না। বরং দ্বিতীয় শক্তিশালী দলই নির্ধারণ করবে, কোন দল সরকারে প্রতিনিধিত্ব করবে। এনসিপি ইতোমধ্যেই অন্যান্য সংস্কারপন্থী দলকে নিয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করেছে এবং একাধিক দল মিলে একটি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
মাঠ পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ জুলুম ও অপকর্মকারীদের বয়কট করছে। যারা মানুষের পাশে থাকছে এবং সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে, জনগণের আগ্রহ তাদের প্রতি বাড়ছে। এনসিপি মধ্যমপন্থি রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই স্থানটি নিতে চায়।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল যদি তাদের আদর্শ সব মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে মানুষ তা থেকে বিমুখ হবে। আগামীর বাংলাদেশে সংস্কারের পক্ষে এবং যেকোনো পরশক্তি ও আধিপত্যবাদের বিপক্ষে তারা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে দাঁড়াবে।
সারজিস আলম প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় কর্মকর্তারা নীতির জায়গায় না থাকলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক রাজনৈতিক দল এখনও পুরনো মানসিকতা ছাড়তে পারেনি; তারা ক্ষমতায় গেলে পেশিশক্তি প্রয়োগ করবে, কালো টাকার খেলা দেখাবে এবং প্রশাসনকে নিজের মতো ব্যবহার করবে।
পুলিশের ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন, কিছু পুলিশ সদস্য এখনও টাকা লেনদেনে জড়িত, যার ফলে অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হয় এবং নিরপরাধকে অপরাধী বানানো হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ওসি, এসপি বা ডিআইজি যতো বড়ই হোক, কেউ যদি দলীয় নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন, এনসিপি ব্যবস্থা নেবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম, ঠাকুরগাঁও জেলা আহ্বায়ক রফিকুল আলম, সদস্য সচিব খলিলুর রহমানসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ রিপোর্ট 








