Hi

০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলশিক্ষার্থীর হিজাব নিষিদ্ধ করল অস্ট্রিয়া

অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সি মেয়েদের স্কুলে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার একটি আইন অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সংসদ। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত এই প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পরই দেশজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক এবং সমাজে বিভাজন আরও গভীর করবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজনৈতিক চাপে রয়েছে অস্ট্রিয়ার রক্ষণশীল সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধের প্রস্তাবটি এ বছর সংসদে আনা হয়।

সরকারের দাবি, মেয়েদের ‘নিপীড়ন থেকে রক্ষা করা’ এবং ‘সমাজে সমতা বজায় রাখা’র লক্ষ্যেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে দেশটির বিরোধী দল গ্রিন পার্টি আইনটির বিরোধিতা করে বলেছে— এটি সংবিধানবিরোধী এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।

এর আগে ২০১৯ সালে অস্ট্রিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু দেশটির সাংবিধানিক আদালত সেই আইনকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বাতিল করে দেয়। তবে এবার সরকার বলছে, নতুন আইনটি সাংবিধানিক কাঠামো মেনেই তৈরি করা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটির সব স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সি মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ হবে। ওই সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে জানানো হবে। প্রথম দিকে কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি বা জরিমানা করা হবে না। তবে নিয়ম ভঙ্গ অব্যাহত থাকলে অভিভাবকদের ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো (১৭৫–৯৩০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর প্রভাব ফেলবে। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ছয় বছর আগে ১৪ বছরের কম বয়সি প্রায় তিন হাজার মেয়ে শিক্ষার্থী নিয়মিত হিজাব পরত।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, স্কুলে ধর্মীয় পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করবে। তবে সরকার তা অস্বীকার করে বলছে, নিষেধাজ্ঞা ধর্ম নয়, বরং শিশুদের স্বাধীনতা ও সমতার জন্য।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলশিক্ষার্থীর হিজাব নিষিদ্ধ করল অস্ট্রিয়া

আপডেট সময় : ০৪:২৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সি মেয়েদের স্কুলে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার একটি আইন অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সংসদ। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত এই প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পরই দেশজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক এবং সমাজে বিভাজন আরও গভীর করবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজনৈতিক চাপে রয়েছে অস্ট্রিয়ার রক্ষণশীল সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধের প্রস্তাবটি এ বছর সংসদে আনা হয়।

সরকারের দাবি, মেয়েদের ‘নিপীড়ন থেকে রক্ষা করা’ এবং ‘সমাজে সমতা বজায় রাখা’র লক্ষ্যেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে দেশটির বিরোধী দল গ্রিন পার্টি আইনটির বিরোধিতা করে বলেছে— এটি সংবিধানবিরোধী এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।

এর আগে ২০১৯ সালে অস্ট্রিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু দেশটির সাংবিধানিক আদালত সেই আইনকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বাতিল করে দেয়। তবে এবার সরকার বলছে, নতুন আইনটি সাংবিধানিক কাঠামো মেনেই তৈরি করা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটির সব স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সি মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ হবে। ওই সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে জানানো হবে। প্রথম দিকে কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি বা জরিমানা করা হবে না। তবে নিয়ম ভঙ্গ অব্যাহত থাকলে অভিভাবকদের ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো (১৭৫–৯৩০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর প্রভাব ফেলবে। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ছয় বছর আগে ১৪ বছরের কম বয়সি প্রায় তিন হাজার মেয়ে শিক্ষার্থী নিয়মিত হিজাব পরত।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, স্কুলে ধর্মীয় পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করবে। তবে সরকার তা অস্বীকার করে বলছে, নিষেধাজ্ঞা ধর্ম নয়, বরং শিশুদের স্বাধীনতা ও সমতার জন্য।

তথ্যসূত্র: বিবিসি