কিডনির রোগ শুধু পানির অভাবে হয় না। গবেষকরা জানিয়ছেন, কিডনির ক্ষতির পেছনে একটি বিশেষ পদার্থ—সেরামাইড—দাপট দেখায়। এটি শরীরের শক্তি উৎপাদনকারী কোষ মাইটোকন্ড্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে কোষের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং কিডনির সুস্থ কোষগুলোও ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ইউনিভার্সিটি অফ ইউটার গবেষকরা জানিয়েছেন, সেরামাইড সবার শরীরে থাকে। তবে প্রক্রিয়াজাত খাবার ও জাঙ্কফুডের কারণে এর মাত্রা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত সেরামাইড মাইটোকন্ড্রিয়ায় আক্রমণ চালিয়ে কোষের শক্তি উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এর ফলে কিডনির কোষগুলো অকেজো হয়ে পড়ে এবং অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি বা কিডনি ফেলিওরের ঝুঁকি বাড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করলে সেরামাইডের মাত্রা কমালে কিডনির ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে। নতুন থেরাপি ‘সেরামাইড কন্ট্রোল থেরাপি’ কিডনির রোগে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। থেরাপির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত হচ্ছে, ক্রনিক রোগীদের ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন কমছে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গবেষকরা বলছেন, এই থেরাপি আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে থেরাপি প্রয়োগ করা হবে। যদি সব ক্ষেত্রে কার্যকরী হয়, তবে এটি কিডনির অসুখ সারাতে ব্যবহার করা হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট 








