Hi

০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদিকে হত্যাচেষ্টা: আদালতে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিলেন ফয়সালের বাবা-মা

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোছা. হাসি বেগম (৬০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে তারা আদালতকে জানান, হামলার পর আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করা এবং অস্ত্র লুকাতে তারা ভূমিকা রেখেছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে ফয়সালের বাবা-মাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে বিচারকের নির্দেশে তাদের খাসকামরায় নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১০ ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফয়সালের চার সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তিনি রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তার বোন জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি একটি ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। পরে বাসার একটি চিপার ভেতর দিয়ে কালো ব্যাগটি ফেলে দেন এবং আবার তার ভাগনে জামিলকে (১৮) দিয়ে সেটি এনে নেন। একই সময় নিজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অন্যটি তার মা হাসি বেগমের কাছে দেন।

এরপর তিনি বাবা-মার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে নিজের অবস্থান নিরাপদ মনে না হওয়ায় আগারগাঁও থেকে প্রথমে মিরপুর, পরে শাহজাদপুরে তার চাচাতো ভাই আরিফের বাসায় যান। শুটার ফয়সালের ব্যাগ বহনের জন্য তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির একটি সিএনজি ভাড়া করে দেন এবং কিছু টাকা দেন। পরবর্তীতে তারা ছোট ছেলে হাসান মাহমুদ বাবলু ওরফে রাজের কেরানীগঞ্জের বাসায় যান। সেখানে অবস্থানকালে জুরাইন থেকে দুটি মোবাইল সিম কিনে ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডের বিজয়নগর এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি একটি রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুজনের একজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিতে হাদি মাথায় গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্তে গুলি চালানোর ঘটনায় দুজনকে সরাসরি জড়িত হিসেবে শনাক্ত করেছে। তারা হলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান, যিনি প্রধান সন্দেহভাজন শুটার এবং মোটরসাইকেলচালক আলমগীর হোসেন। এ মামলায় ইতোমধ্যে ফয়সালের স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিকানা নিয়ে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত কবিরের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একইদিন ফয়সালকে পালিয়ে যেতে গাড়ি দিয়ে সহায়তা করার অভিযোগে মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদিকে হত্যাচেষ্টা: আদালতে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিলেন ফয়সালের বাবা-মা

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোছা. হাসি বেগম (৬০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে তারা আদালতকে জানান, হামলার পর আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করা এবং অস্ত্র লুকাতে তারা ভূমিকা রেখেছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে ফয়সালের বাবা-মাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে বিচারকের নির্দেশে তাদের খাসকামরায় নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১০ ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফয়সালের চার সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তিনি রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তার বোন জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি একটি ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। পরে বাসার একটি চিপার ভেতর দিয়ে কালো ব্যাগটি ফেলে দেন এবং আবার তার ভাগনে জামিলকে (১৮) দিয়ে সেটি এনে নেন। একই সময় নিজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অন্যটি তার মা হাসি বেগমের কাছে দেন।

এরপর তিনি বাবা-মার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে নিজের অবস্থান নিরাপদ মনে না হওয়ায় আগারগাঁও থেকে প্রথমে মিরপুর, পরে শাহজাদপুরে তার চাচাতো ভাই আরিফের বাসায় যান। শুটার ফয়সালের ব্যাগ বহনের জন্য তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির একটি সিএনজি ভাড়া করে দেন এবং কিছু টাকা দেন। পরবর্তীতে তারা ছোট ছেলে হাসান মাহমুদ বাবলু ওরফে রাজের কেরানীগঞ্জের বাসায় যান। সেখানে অবস্থানকালে জুরাইন থেকে দুটি মোবাইল সিম কিনে ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডের বিজয়নগর এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি একটি রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুজনের একজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিতে হাদি মাথায় গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্তে গুলি চালানোর ঘটনায় দুজনকে সরাসরি জড়িত হিসেবে শনাক্ত করেছে। তারা হলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান, যিনি প্রধান সন্দেহভাজন শুটার এবং মোটরসাইকেলচালক আলমগীর হোসেন। এ মামলায় ইতোমধ্যে ফয়সালের স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিকানা নিয়ে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত কবিরের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একইদিন ফয়সালকে পালিয়ে যেতে গাড়ি দিয়ে সহায়তা করার অভিযোগে মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।