Hi

১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত আপিল: সুপ্রিম কোর্টে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শুরু

  • রবিউল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫১ জন দেখেছে

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাতজন বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর শুনানি শুরু হয়েছে। এর আগে ২১–২৩ অক্টোবর ধারাবাহিকভাবে আপিলের প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালতে বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

প্রাথমিক পটভূমি

১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম. সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে।

এর বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।

আপিল ও চূড়ান্ত রায়

২০০৫ সালে রিট আবেদনকারী পক্ষ আপিল করেন। ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। এরপর পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।

পুনর্বিবেচনার আবেদন

৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। অন্য চারজন হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম. হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও একই ধরনের আবেদন করেছেন।

চলমান শুনানি

মঙ্গলবারের শুনানি মূলত এই পুনর্বিবেচনার আবেদনগুলোর প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আদালতে ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী, আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

এই শুনানি দেশের রাজনৈতিক ও সংবিধানিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই রায় দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ভবিষ্যত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

টাইমলাইন সংক্ষেপে

১৯৯৬ – ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত
১৯৯৮ – হাইকোর্টে রিট দায়ের
২০০৪ (৪ আগস্ট) – হাইকোর্ট রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বৈধ ঘোষণা
২০০৫ – আপিল দায়ের
২০১১ (১০ মে) – আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা
২০১১ (৩০ জুন) – পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস
২০১১ (৩ জুলাই) – গেজেট প্রকাশ
২০২৫ (৫ আগস্ট) – পুনর্বিবেচনার আবেদন (বদিউল আলম মজুমদারসহ ৫ জন)
২০২৫ (১৬ অক্টোবর) – বিএনপির মহাসচিব ফখরুল পুনর্বিবেচনার আবেদন

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত আপিল: সুপ্রিম কোর্টে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শুরু

আপডেট সময় : ১১:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাতজন বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর শুনানি শুরু হয়েছে। এর আগে ২১–২৩ অক্টোবর ধারাবাহিকভাবে আপিলের প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালতে বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

প্রাথমিক পটভূমি

১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম. সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে।

এর বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।

আপিল ও চূড়ান্ত রায়

২০০৫ সালে রিট আবেদনকারী পক্ষ আপিল করেন। ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। এরপর পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।

পুনর্বিবেচনার আবেদন

৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। অন্য চারজন হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম. হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও একই ধরনের আবেদন করেছেন।

চলমান শুনানি

মঙ্গলবারের শুনানি মূলত এই পুনর্বিবেচনার আবেদনগুলোর প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আদালতে ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী, আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

এই শুনানি দেশের রাজনৈতিক ও সংবিধানিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই রায় দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ভবিষ্যত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

টাইমলাইন সংক্ষেপে

১৯৯৬ – ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত
১৯৯৮ – হাইকোর্টে রিট দায়ের
২০০৪ (৪ আগস্ট) – হাইকোর্ট রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বৈধ ঘোষণা
২০০৫ – আপিল দায়ের
২০১১ (১০ মে) – আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা
২০১১ (৩০ জুন) – পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস
২০১১ (৩ জুলাই) – গেজেট প্রকাশ
২০২৫ (৫ আগস্ট) – পুনর্বিবেচনার আবেদন (বদিউল আলম মজুমদারসহ ৫ জন)
২০২৫ (১৬ অক্টোবর) – বিএনপির মহাসচিব ফখরুল পুনর্বিবেচনার আবেদন