রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে ৩৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিভাগজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। মনোনয়নপ্রাপ্ত ও মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করায় অনেক এলাকায় সংঘাতময় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মনোনীত প্রার্থীদের অভিযোগ, মনোনয়নবঞ্চিতরা ইচ্ছাকৃতভাবে দলে বিভক্তি সৃষ্টি করছেন এবং এতে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থীরা সুবিধা পেয়ে যেতে পারে।
রাজশাহী-৩: মহাসড়ক অবরোধে যান চলাচল বন্ধ
রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সোমবার রাজশাহী–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন বঞ্চিত রায়হানুল হক ও নাসির হোসেনের অনুসারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
রাজশাহী-৫: দুই দিন ধরে বিক্ষোভ ও অবরোধ
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনে নজরুল ইসলাম মণ্ডলের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেন মনোনয়নবঞ্চিত চার প্রার্থীর অনুসারীরা। পরদিন মঙ্গলবার বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শিবপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: ৯০ বছর বয়সী প্রার্থীর বিরুদ্ধে মশাল মিছিল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে মনোনীত অধ্যাপক শাজাহান মিয়ার পরিবর্তে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতকে প্রার্থী করার দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। মঙ্গলবার শওকতের অনুসারীরা কয়লাবাড়ী এলাকায় মশাল মিছিল নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ–সোনামসজিদ সড়কে অবরোধ করেন।
অভিযোগ উঠেছে, ৯০ বছর বয়সী শাজাহান মিয়া বিদেশেই সময় কাটিয়েছেন এবং দলের কর্মীদের খোঁজখবর নেননি। এ বয়সে তার পক্ষে গণসংযোগ করাও সম্ভব নয়। মনোনয়ন না পাওয়ার পর সৈয়দ শাহীন শওকত ফেসবুকে নিজের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২: আমিনুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল–গোমস্তাপুর–ভোলাহাট) আসনে আমিনুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নাচোল ডাকবাংলা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ হয়। বঞ্চিত ইঞ্জিনিয়ার ইমদাদুল হক মাসুদের সমর্থকরা আমিনুলকে “ফ্যাসিস্টের দোসর” আখ্যা দেন।
নওগাঁর তিন আসনে অবরোধ–বিক্ষোভ
নওগাঁর ঘোষিত পাঁচটি আসনের তিনটিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে।
নওগাঁ-১: মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বঞ্চিত ছালেক চৌধুরীর অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করেন। ছালেক তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য।
নওগাঁ-৩: ফজলে হুদা বাবলুর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনির অনুসারীরা বিক্ষোভ করেন। জনি সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে।
নওগাঁ-৪: ইকরামুল বারী টিপুর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আব্দুল মতিনের সমর্থকরা রাজশাহী–নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।
নাটোর-১: সাবেক মন্ত্রীর মেয়েকে প্রার্থী করায় ক্ষোভ
নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসনে সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল মনোনীত হয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ বঞ্চিত ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজনের সমর্থকরা লালপুর–বনপাড়া আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, এতে দলে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাবনা-৩: কৃষক দল নেতার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি
পাবনা-৩ (চাটমোহর–ভাঙ্গুড়া–ফরিদপুর) আসনে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাসান জাফির তুহিনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বঞ্চিত আনোয়ারুল ইসলাম ও হাসাদুল ইসলাম হীরার সমর্থকরা চাটমোহর উপজেলা সদরে বিক্ষোভ করেন।
জয়পুরহাটে দুই আসনেই উত্তেজনা
জয়পুরহাট-১: মাসুদ রানা প্রধানের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আব্দুল গফুর মন্ডলের সমর্থকরা ধারাবাহিক বিক্ষোভ করছেন।
জয়পুরহাট-২: সাবেক সচিব আব্দুল বারীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার অনুসারীরা একাধিক বিক্ষোভ করেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় অবস্থান
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আব্দুস সালাম বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল, তাই অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। সার্বিক মূল্যায়ন ও দলের প্রতি অবদান বিবেচনা করেই প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, নইলে প্রতিপক্ষ লাভবান হতে পারে।
জেলা প্রতিনিধি,জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ। 











