রাজধানীর কল্যাণপুরের বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সীমিত আয়ে প্রতি মাসেই টানাটানি করে সংসার চলে তাঁর। তারিকুলের সব সময়ের চিন্তা কী করে খরচ কমানো যায়। কিন্তু কাঁচাবাজারে ঢুকলেই যেন সব পরিকল্পনা উল্টে যায়। তাই চলতি মাসের শুরুতে তারিকুল ঠিক করলেন—এবার খরচ কমাবেন। এবং সফলও হয়েছেন।
এবার দেখা যাক, কীভাবে আপনি খরচ কমাতে পারেন। খরচ কমানোর কিছু কৌশল নিচে দেওয়া হলো:
১. আগে পরিকল্পনা, তারপর বাজারে যাবেন
বাজারে যাওয়ার আগে একবার ফ্রিজ ও রান্নাঘর চেক করুন—কোন জিনিস আছে, কোনটা ফুরিয়ে এসেছে। তারপর কেনাকাটার তালিকা তৈরি করুন। তালিকা অনুযায়ী কেনাকাটা অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কমায় এবং বাজেটের মধ্যে থাকা সম্ভব হয়।
২. বাজেট ঠিক করুন
প্রতি মাসে খাবারদাবারের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট ঠিক করুন। খুব প্রয়োজন না হলে সেই বাজেটের মধ্যে থাকুন। বাজেট থাকলে বোঝা সহজ হয়—কোনটা এখন দরকার, কোনটা পরে।
৩. মৌসুম অনুযায়ী পণ্য কিনুন
মৌসুমে শাকসবজি, ফল বা মাছের সরবরাহ বেশি থাকে। মৌসুম অনুযায়ী কেনাকাটা করলে দাম কমে এবং মান ভালো থাকে।
৪. দীর্ঘস্থায়ী পণ্য সংরক্ষণ করুন
চাল, ডাল, তেল বা মসলা অনেকদিন সংরক্ষণযোগ্য। বড় প্যাকেট বা পাইকারি দরে কিনলে খরচ কমে। তবে সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. দাম যাচাই করুন
একই জিনিসের দাম দোকানভেদে বা বাজারভেদে ভিন্ন হতে পারে। একটু খোঁজ নিলে বোঝা যায় কোথায় তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।
৬. বাজারের সময় ঠিক করুন
-
সকালে বাজারে গেলে পণ্য টাটকা থাকে এবং দামও অনেক সময় কম থাকে।
-
দিনের শেষে কিছু বিক্রেতা পচনশীল জিনিস কম দামে বিক্রি করে।
৭. ছাড়ের সুবিধা কাজে লাগান
সুপারশপ বা অনলাইন বাজারে অনেক সময় ‘বাই ওয়ান, গেট ওয়ান’ বা অন্যান্য ছাড় চলে। এ সুবিধা কাজে লাগালে খরচ কমানো সম্ভব।
মনে রাখবেন
-
অপচয় রোধে পরিমিত কেনাকাটা করুন।
-
মাছ, মাংস, সবজি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারলে অর্থের অপচয় হয়।
-
প্রতিদিন কতটুকু খাবার লাগে, তার ধারণা রাখুন।
-
বাজারে দাম ওঠানামা হয়। বেশি দামে বেশি কিনলে লোকসান হয়। তাই প্রয়োজনমতোই কিনুন।
মো. লিমন 














