Hi

০৭:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞা শেষ, বরিশালে ইলিশের বেচাকেনা শুরু, ক্রেতারা হতাশ

  • মো. লিমন
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৯৯ জন দেখেছে

বরিশাল জেলার বিভিন্ন মাছের বাজারে আসতে শুরু করেছে রুপালি ইলিশ। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ইলিশের বেচাকেনা শুরু হলেও দামে উঠানামা ক্রেতাদের হতাশ করছে। মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ কম ধরা পড়ায় দাম বেশি হচ্ছে। তবে ইলিশের আমদানি বাড়লে দাম অনেকটাই কমবে বলে তাদের আশা।

সোমবার ভোরে পোর্ট রোড বাজার, নতুন বাজার ও নথুল্লাবাদ বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ আহরণ ও বিক্রির কারণে বাজারে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তুলনামূলকভাবে বড় ইলিশ কম পাওয়া গেলেও ছোট ও মাঝারি সাইজের ইলিশে বাজার সয়লাব।

দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত পোর্ট রোড মাছ বাজার সবচেয়ে বড় ইলিশ বেচাকেনার কেন্দ্র। মাছ ব্যবসায়ী মারুফ আকন বলেন, ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে ছোট সাইজের ইলিশ (প্রতি ২০০ গ্রাম) ৫০০–৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়।

নতুন বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা বাতেন শেখ বলেন, “নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া যথেষ্ট নয়, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে। এর মাধ্যমে ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।” নিষেধাজ্ঞার আগে এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন সেই একই ওজনের মাছ দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলে আবুল কালাম জানান, নদীতে ইলিশের সাইজ ছোট। কীর্তনখোলা নদীতে নৌকা চালিয়ে তিনি তিন হালি মাঝারি সাইজের ইলিশ পেয়েছেন। তিনি বলছেন, “এই মাছ বিক্রি করে নৌকার তেলের খরচও উঠাতে সমস্যা হবে।”

মাছ বাজারের আড়তদার মনির পালোয়ান বলেন, “ইলিশের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য নদী খনন প্রয়োজন। নদীতে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করার পদক্ষেপ নিলে সাগরের ইলিশ নদীতে আসবে। এতে ইলিশের আমদানি বাড়বে এবং দাম কমবে।”

ইলিশ বিক্রেতা শাহজালাল বলেন, “নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু অর্ডার দিতে পারিনি। এখন আশা করছি, সব অর্ডার ডেলিভারি দিতে পারব। পূর্বের মতো ইলিশের দাম ওঠানামা শুরু হয়েছে।”

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলে ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জেলেরা বড় সাইজের ইলিশ পাবেন এবং দাম ক্রেতাদের নাগালে রাখতে বাজারে নজরদারি চালানো হবে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা শেষ, বরিশালে ইলিশের বেচাকেনা শুরু, ক্রেতারা হতাশ

আপডেট সময় : ১২:০২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

বরিশাল জেলার বিভিন্ন মাছের বাজারে আসতে শুরু করেছে রুপালি ইলিশ। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ইলিশের বেচাকেনা শুরু হলেও দামে উঠানামা ক্রেতাদের হতাশ করছে। মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ কম ধরা পড়ায় দাম বেশি হচ্ছে। তবে ইলিশের আমদানি বাড়লে দাম অনেকটাই কমবে বলে তাদের আশা।

সোমবার ভোরে পোর্ট রোড বাজার, নতুন বাজার ও নথুল্লাবাদ বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ আহরণ ও বিক্রির কারণে বাজারে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তুলনামূলকভাবে বড় ইলিশ কম পাওয়া গেলেও ছোট ও মাঝারি সাইজের ইলিশে বাজার সয়লাব।

দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত পোর্ট রোড মাছ বাজার সবচেয়ে বড় ইলিশ বেচাকেনার কেন্দ্র। মাছ ব্যবসায়ী মারুফ আকন বলেন, ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে ছোট সাইজের ইলিশ (প্রতি ২০০ গ্রাম) ৫০০–৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়।

নতুন বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা বাতেন শেখ বলেন, “নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া যথেষ্ট নয়, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে। এর মাধ্যমে ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।” নিষেধাজ্ঞার আগে এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন সেই একই ওজনের মাছ দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলে আবুল কালাম জানান, নদীতে ইলিশের সাইজ ছোট। কীর্তনখোলা নদীতে নৌকা চালিয়ে তিনি তিন হালি মাঝারি সাইজের ইলিশ পেয়েছেন। তিনি বলছেন, “এই মাছ বিক্রি করে নৌকার তেলের খরচও উঠাতে সমস্যা হবে।”

মাছ বাজারের আড়তদার মনির পালোয়ান বলেন, “ইলিশের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য নদী খনন প্রয়োজন। নদীতে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করার পদক্ষেপ নিলে সাগরের ইলিশ নদীতে আসবে। এতে ইলিশের আমদানি বাড়বে এবং দাম কমবে।”

ইলিশ বিক্রেতা শাহজালাল বলেন, “নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু অর্ডার দিতে পারিনি। এখন আশা করছি, সব অর্ডার ডেলিভারি দিতে পারব। পূর্বের মতো ইলিশের দাম ওঠানামা শুরু হয়েছে।”

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলে ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জেলেরা বড় সাইজের ইলিশ পাবেন এবং দাম ক্রেতাদের নাগালে রাখতে বাজারে নজরদারি চালানো হবে।