মদিনা শহর প্রতি বছর লাখ লাখ মুসলিম হজ ও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করেন। মক্কার পরে এটি ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্র শহর হিসেবে বিবেচিত। শহরের প্রধান আকর্ষণ হলো ‘মসজিদে নববি’, যেখানে নবী মুহাম্মদ (সা.) এর কবর অবস্থিত। এছাড়া ইসলামের প্রথম মসজিদ ‘মসজিদ কুবা’ও মদিনার দর্শনীয় স্থাপত্যের অংশ।
কুবা মসজিদ
মসজিদে নববির থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুবা মসজিদ ইসলামের প্রথম মসজিদ। নবী মুহাম্মদ নিজ হাতে এর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। মুসলিমদের বিশ্বাস, কুবা মসজিদে নামাজ পড়া উমরাহ পালনের সমতুল্য প্রতিদান বয়ে আনে। মসজিদটি চারটি মিনার এবং ৪৭ মিটার উচ্চতার একটি সাদা গম্বুজ দ্বারা সুসজ্জিত।
মসজিদে নববি ও জান্নাত আল-বাকি
মসজিদে নববি মুসলিমদের জন্য একটি পবিত্র তীর্থস্থান। এর নিকটবর্তী জান্নাত আল-বাকি কবরস্থানে নবী মুহাম্মদের অনেক সাহাবি ও পরিবারের সদস্য সমাহিত। কবরস্থানের চারপাশে প্রবেশদ্বার রয়েছে তিনটি দিক থেকে, যা দর্শনার্থীদের জন্য সহজ প্রবেশ নিশ্চিত করে।
হিজায রেলওয়ে ও মাদাইন সালেহ
১৯০০ সালের দিকে সিরিয়ার দামেস্ক থেকে মক্কার যাত্রার জন্য হিজায রেলওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯০৮ সালে চালু হওয়া এই রেলওয়ে যাত্রাকে ৪০ দিন থেকে মাত্র পাঁচ দিনে নামিয়ে আনে। রেলওয়ের কাছেই অবস্থিত মাদাইন সালেহ বা আল-হাজর কিলার ধ্বংসাবশেষ পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়। এখানে প্রথম শতাব্দীর নাবাতিয়ান সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ এবং ১১১টি সমাধি রয়েছে।
উরওয়া বিন আল-জুবায়ের প্যালেস
মসজিদে নববির কাছে অবস্থিত এই প্রাচীন প্যালেস ইসলামী যুগের সূচনার নিদর্শন। এটি কাদা ও পাথর দিয়ে নির্মিত। এখানে তিনটি বিশাল বাগান, একাধিক কক্ষ, রান্নাঘর এবং জলকূপ রয়েছে। ধারণা করা হয়, মক্কার তীর্থযাত্রীরা পানি পান করার জন্য এই জলকূপ ব্যবহার করতেন।
মসজিদ কিবলাতিন ও আলী মসজিদ
মসজিদ কিবলাতিন মসজিদের বিশেষত্ব হলো নামাজের সময় কিবলা পরিবর্তনের ইতিহাস ধারণ করা। নবী মুহাম্মদ (সা.) মক্কার কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ার নির্দেশ এই মসজিদে পেয়েছিলেন। আলী মসজিদে নবী মুহাম্মদ ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর হজরত আলীও এখানে ঈদের নামাজ পড়েছিলেন।
খাইবার ও আল বিনতে ড্যাম
খাইবার অঞ্চলে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং প্রাচীন আল বিনতে ড্যাম রয়েছে। এই বাঁধ প্রাচীন শেবা যুগে নির্মিত এবং আজও দর্শনার্থীদেরকে মুগ্ধ করে। বাঁধটি ৫০ মিটার উচ্চ, ২৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ মিটার প্রশস্ত। চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও খেজুরসহ অন্যান্য ফলের গাছের সমৃদ্ধি একে অনন্য করে তোলে।
পর্যটকদের জন্য তথ্য
সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে মুসলিম এবং বিদেশি পর্যটকরা সহজেই মদিনার এই পবিত্র এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শন করতে পারবেন। এছাড়া শহরে জাবাল উহুদ, জাবাল আল-রামাহ, জাবালে নূরসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়।
মদিনা শহরের এই দর্শনীয় স্থানগুলো শুধু ধর্মীয় নয়, বরং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির জীবন্ত সাক্ষী।
পর্যটন ডেস্ক 














