আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আবারও কারচুপির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।
শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এনসিপির ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং ঢাকা জেলা শাখার সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা আবারও একটি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে যাচ্ছি। ২০২৪, ২০১৮ ও ২০১৪ সালের মতো বিতর্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেটিই জাতির প্রত্যাশা। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার যেভাবে অগ্রগতি হচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে আবারও একটি পূর্বপরিকল্পিত (প্রি–ইঞ্জিনিয়ার্ড) নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া হতে পারে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে সচিবালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ডিসি ভাগাভাগি চলছে।
“যেমন চট্টগ্রামের ডিসি আমি নেব, উত্তরবঙ্গের দুইটা ডিসি ছাড়তে হবে—এইভাবে কর্মকর্তাদের ভাগাভাগি হচ্ছে,” বলেন হাসনাত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগের চেষ্টা করছে। এছাড়া তারা স্কুল কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শিক্ষকদের জিম্মি করছে, এবং নির্বাচন কেন্দ্র দখলের লক্ষ্যে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, “এ কমিশন একটি স্পাইনলেস (মেরুদণ্ডহীন) কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে গণিমতের মাল হিসেবে ভাগ করে নিয়েছে। তারা নির্ধারণ করে দেয়—কে উপদেষ্টা থাকবে, কে থাকবে না।”
অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আপনাদের আমরা এনেছি ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে, দর্শক হয়ে থাকতে নয়। কিন্তু যদি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নতজানু হয়ে ডিসি ভাগাভাগিতে সহযোগিতা করেন, তবে জাতি আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচনের মুখোমুখি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই, এবং সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে এনসিপি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদসহ দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতা।
মো. লিমন 










