Hi

০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে ভুয়া চাকরির প্রলোভনে বাড়ছে সাইবার প্রতারণা

অনলাইনে চাকরি খোঁজা এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই প্রবণতাকেই কাজে লাগাচ্ছে সাইবার প্রতারকরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সাবলাইম সিকিউরিটি জানিয়েছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে নতুন ধরনের প্রতারণা চালাচ্ছে হ্যাকাররা—যেখানে ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের লগইন তথ্য চুরি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম হ্যাকরেড–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতারকরা অ্যামাজন, কেএফসি, রেড বুল ও ফেরারির মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের নামে নকল চাকরির বিজ্ঞাপন তৈরি করছে। এসব বিজ্ঞাপন এতটাই বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা হয় যে অনেক ব্যবহারকারী তা আসল মনে করে আবেদন করছেন। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটি আসলে একটি সুচিন্তিত ফিশিং কৌশল।

কীভাবে চলছে প্রতারণা

গবেষকদের তথ্যমতে, প্রথমে টার্গেট ব্যবহারকারীদের ইমেইলের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব পাঠানো হয়। এসব ইমেইলে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয় যা উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইমেইলে থাকা লিংকে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীকে নেওয়া হয় একটি নকল নিরাপত্তা যাচাই পেজে। সেখান থেকে আবার রিডিরেক্ট করা হয় এমন এক ওয়েবসাইটে, যা দেখতে জনপ্রিয় জব পোর্টালের মতো। এরপর আবেদনকারীদের বলা হয়, ‘ফেসবুক বা ইমেইল দিয়ে লগইন করুন।’

যখন কেউ ফেসবুক বিকল্পটি বেছে নেন, তখন একটি লোডিং বার দেখা যায় যা কখনোই শেষ হয় না—কিন্তু এই সময়েই হ্যাকাররা গোপনে ব্যবহারকারীর ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে নেয়।

এর আগেও একই পদ্ধতিতে মাইক্রোসফট ৩৬৫ ও গুগল ওয়ার্কস্পেস ব্যবহারকারীদের টার্গেট করা হয়েছিল। তখনও ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দেখিয়ে লগইন তথ্য চুরি করা হয়।

কিভাবে বাঁচবেন

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

  • অপরিচিত বা সন্দেহজনক ইমেইলে চাকরির প্রস্তাব পেলে তাতে ক্লিক না করা।

  • সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে যাচাই করা বিজ্ঞাপনটি আসল কি না।

  • ইমেইল প্রেরকের ঠিকানা ও ওয়েবসাইটের ইউআরএল ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা।

  • এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখা। এতে লগইন তথ্য ফাঁস হলেও অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইনে চাকরির প্রলোভন এখন সাইবার অপরাধীদের বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। তাই যেকোনো আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ‘যাচাই না করে বিশ্বাস নয়’—এই নীতিতেই নিরাপদ থাকা সম্ভব।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে ভুয়া চাকরির প্রলোভনে বাড়ছে সাইবার প্রতারণা

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

অনলাইনে চাকরি খোঁজা এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই প্রবণতাকেই কাজে লাগাচ্ছে সাইবার প্রতারকরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সাবলাইম সিকিউরিটি জানিয়েছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে নতুন ধরনের প্রতারণা চালাচ্ছে হ্যাকাররা—যেখানে ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের লগইন তথ্য চুরি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম হ্যাকরেড–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতারকরা অ্যামাজন, কেএফসি, রেড বুল ও ফেরারির মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের নামে নকল চাকরির বিজ্ঞাপন তৈরি করছে। এসব বিজ্ঞাপন এতটাই বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা হয় যে অনেক ব্যবহারকারী তা আসল মনে করে আবেদন করছেন। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটি আসলে একটি সুচিন্তিত ফিশিং কৌশল।

কীভাবে চলছে প্রতারণা

গবেষকদের তথ্যমতে, প্রথমে টার্গেট ব্যবহারকারীদের ইমেইলের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব পাঠানো হয়। এসব ইমেইলে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয় যা উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইমেইলে থাকা লিংকে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীকে নেওয়া হয় একটি নকল নিরাপত্তা যাচাই পেজে। সেখান থেকে আবার রিডিরেক্ট করা হয় এমন এক ওয়েবসাইটে, যা দেখতে জনপ্রিয় জব পোর্টালের মতো। এরপর আবেদনকারীদের বলা হয়, ‘ফেসবুক বা ইমেইল দিয়ে লগইন করুন।’

যখন কেউ ফেসবুক বিকল্পটি বেছে নেন, তখন একটি লোডিং বার দেখা যায় যা কখনোই শেষ হয় না—কিন্তু এই সময়েই হ্যাকাররা গোপনে ব্যবহারকারীর ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে নেয়।

এর আগেও একই পদ্ধতিতে মাইক্রোসফট ৩৬৫ ও গুগল ওয়ার্কস্পেস ব্যবহারকারীদের টার্গেট করা হয়েছিল। তখনও ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দেখিয়ে লগইন তথ্য চুরি করা হয়।

কিভাবে বাঁচবেন

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

  • অপরিচিত বা সন্দেহজনক ইমেইলে চাকরির প্রস্তাব পেলে তাতে ক্লিক না করা।

  • সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে যাচাই করা বিজ্ঞাপনটি আসল কি না।

  • ইমেইল প্রেরকের ঠিকানা ও ওয়েবসাইটের ইউআরএল ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা।

  • এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখা। এতে লগইন তথ্য ফাঁস হলেও অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইনে চাকরির প্রলোভন এখন সাইবার অপরাধীদের বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। তাই যেকোনো আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ‘যাচাই না করে বিশ্বাস নয়’—এই নীতিতেই নিরাপদ থাকা সম্ভব।