২০২২ সালের ডিসেম্বরে মেট্রোরেল চালুর পর ঢাকার একাংশের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় এসেছে আধুনিকতা ও স্বস্তি। ব্যয়বহুল হলেও এটি দ্রুত, সময়নিষ্ঠ ও শৃঙ্খল পরিবহন হিসেবে নাগরিক আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ফার্মগেট এলাকায় পিলার ও ভায়াডাক্টের মাঝখানে থাকা বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু—এই আস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।
এটি নতুন ঘটনা নয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে একই এলাকায় এমন বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল, যদিও তখন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগের ঘটনার পর যদি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে এবারের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল। এটি নিঃসন্দেহে প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার ফল।
তদন্ত কমিটি আগের প্রতিবেদন যাচাই করে দুই সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেবে বলা হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—আগের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছিল কি? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জরুরি।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে বড় বাঁক ও উচ্চতার পার্থক্যের কারণে এমন সমস্যা হতে পারে। কিন্তু প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল নকশাগত ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতির ফল।
প্রতি কিলোমিটারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত মেট্রোরেলে কেন বারবার নিরাপত্তাঝুঁকি দেখা দেবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। জাপানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনকেডিএমের নকশা বা তদারকিতে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা উচিত।
২০২০ সালে অভিযোগ উঠেছিল, প্রকল্পে মানহীন বিয়ারিং প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে। চলমান তদন্তে এই অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
মেট্রোরেল এখন ঢাকার গণপরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর যান্ত্রিক ত্রুটি বা অবহেলার কারণে যদি মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে, তবে এই আধুনিক যাত্রা অর্থহীন হয়ে পড়বে। রাষ্ট্র ও ডিএমটিসিএলকে নিশ্চিত করতে হবে—এমন দুর্ঘটনা আর কখনো না ঘটে।
ডেস্ক রিপোর্ট 









