বাংলা পঞ্জিকার পাতায় অগ্রহায়ণ আসতে বাকি আর কয়েকদিন। কার্তিকের এই শেষ সময়ে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ধীরে ধীরে নামছে শীতের আমেজ। কোথাও কোথাও ভোরে দেখা যাচ্ছে হালকা কুয়াশা, ঘাসের ডগায় ঝরছে শিশির বিন্দু—প্রকৃতি যেন জানিয়ে দিচ্ছে শীতের আগমনবার্তা।
তবে রাজধানীসহ দেশের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে এখনো গরমের অস্বস্তি কাটেনি। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় রাজধানীবাসী এখনো গরম অনুভব করছেন।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগের তুলনায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। ফলে গরমের দাপট কিছুটা কমে আসবে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখনো শীতকাল শুরু না হলেও শেষরাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। যখন দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ১০ ডিগ্রি বা তার নিচে নেমে আসে, তখনই আমরা শীতের অনুভূতি পাই।
তার মতে, বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে সাধারণত মধ্য নভেম্বর থেকেই শীতের প্রকৃত সূচনা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস—যার ব্যবধান ১০ ডিগ্রির কম হওয়ায় শীতের অনুভূতি এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, উত্তরের জেলা নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ১৮.২ ডিগ্রি, যা সেখানে শীতের উপস্থিতি স্পষ্ট করছে।
শনিবারের বুলেটিনে দেখা গেছে, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই পঞ্চগড়, রাজারহাট, শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে শীতের আমেজ দেখা দেয়। তবে ঢাকায় তা পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, যদি বাতাসের গতি বাড়ে এবং সূর্যের আলো কমে আসে, তবে রাজধানীতেও দ্রুত শীতের অনুভূতি তৈরি হবে।
‘উনো বর্ষা, দুনো শীত’—প্রবাদে কতটা সত্য?
বাংলাদেশের প্রচলিত প্রবাদ “উনো বর্ষা, দুনো শীত”—অর্থাৎ বর্ষায় বৃষ্টি কম হলে শীতে ঠান্ডা বেশি পড়ে। তবে এবছর সেই প্রবাদ পুরোপুরি মেলে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছর বর্ষায় ও পরবর্তী সময়ে দেশে বৃষ্টিপাত হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। নভেম্বরের শুরুতেও ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে।
আবুল কালাম মল্লিক বলেন, যে বছর বেশি বৃষ্টি হয়, সে বছর শীত কিছুটা কম পড়ে, কারণ মাটিতে তখন আর্দ্রতা বেশি থাকে। তবে প্রবাদটি মানুষের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ থেকে এসেছে, যার সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার কিছুটা মিল রয়েছে।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা
প্রান্তিক অঞ্চলে ধীরে ধীরে শীত বাড়লেও ঢাকায় এখনো গরমের প্রভাব রয়েছে। এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় চিকিৎসকরা দিচ্ছেন বিশেষ সতর্কতার পরামর্শ।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, এই সময়ে জ্বর, গা ব্যথা, চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ঠান্ডাজনিত শ্বাসকষ্টের রোগী বাড়ে।
তিনি জানান, শীত শুরু হওয়ার আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তদের প্রতিরোধমূলক ভ্যাকসিন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কবে নামবে শীত?
আবহাওয়াবিদদের মতে, নভেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীতের উপস্থিতি স্পষ্ট হবে। ঢাকায় শীত পৌঁছাতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। তবে বাতাসের প্রবাহ বাড়লে এবং দিন ছোট হতে শুরু করলে ক্রমান্বয়ে সারা দেশেই ঠান্ডা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মো. লিমন 












