রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও সমমনা আরও ছয়টি দলের যৌথ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আটটি দল মিলিতভাবে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে এবং সমাবেশটি হলো আন্দোলনের পঞ্চম ধাপের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি।
সমাবেশ দুপুর ২টা ৫ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, যিনি দুপুর ৩টার দিকে সভায় যোগ দেন। সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
সমাবেশের জন্য পুরানা পল্টন মোড়ের দক্ষিণ পাশে দুটি ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। অন্য পাশের সড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে স্বেচ্ছাসেবকরা ব্যবস্থা করছেন। মঞ্চের আশপাশ ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তারা দলীয় পতাকা, প্রতীক ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সমাবেশস্থল মুখর করেছেন।
এই আটটি দল—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি—জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে।
দাবিগুলো হলো:
-
জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক আদেশ জারি করা এবং তার ওপর ভিত্তি করে নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজন করা।
-
আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে/উচ্চ কক্ষে পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতি চালু করা।
-
অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
-
ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
-
স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোট কবে হবে—এটি নিয়ে দলগুলোকে সমঝোতায় আসার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সাত দিনের সময় দিয়েছিল। সেই সময় শেষ হওয়ায়, দলের নেতারা পুনরায় মাঠে সমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবির ওপর জোর দিচ্ছেন।
পল্টনের এই সমাবেশ হলো আট দলের যৌথ আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তারা জাতীয় সনদ, গণভোট এবং নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে একত্রিত হয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন। সমাবেশে নেতারা বক্তৃতার মাধ্যমে জনগণ ও সমর্থকদের সঙ্গে তাদের অবস্থান শেয়ার করেছেন, এবং দেশের রাজনৈতিক ও সংবিধানগত পরিবর্তনের জন্য তাদের চরম অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
মো. লিমন 










