Hi

১১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউমোনিয়া থেকে সুরক্ষিত থাকতে যা করবেন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮০ জন দেখেছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর সারা বিশ্বে ২৫ লাখের বেশি মানুষ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, যার অর্ধেকের বেশি পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। বাংলাদেশেও এখনো শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই রোগ।

নিউমোনিয়া মূলত ফুসফুসের প্রদাহজনিত সংক্রমণ, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। সংক্রমণের ফলে ফুসফুসের ছোট বায়ুথলিগুলো তরল বা পুঁজে ভরে যায়, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, নিউমোনিয়া শুধু একটি রোগ নয়—এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সামাজিক সচেতনতার প্রতিফলন।

কীভাবে ছড়ায় ও কারা ঝুঁকিতে

সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে, যা নিশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। এ ছাড়া দূষিত বস্তু বা হাত দিয়ে মুখ-নাক স্পর্শ করলেও রোগ ছড়াতে পারে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। পাশাপাশি দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যক্তি, ধূমপায়ী, অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ এবং দূষিত পরিবেশে বসবাসকারীরাও ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

উপসর্গ ও চিকিৎসা

নিউমোনিয়ায় সাধারণত জ্বর ও কাঁপুনি, কাশি, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। শিশুদের খাওয়ায় অনীহা বা বয়স্কদের মানসিক বিভ্রান্তিও হতে পারে। গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি ও অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়, আর ভাইরাল ক্ষেত্রে বিশ্রাম ও উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাই যথেষ্ট।

প্রতিরোধের উপায়

নিউমোনিয়া প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ।

  • টিকা গ্রহণ: নিউমোকোক্কাল ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নিউমোনিয়া প্রতিরোধে কার্যকর।

  • সুষম খাদ্য: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

  • হাত ধোয়া ও মাস্ক ব্যবহার: জীবাণু সংক্রমণ কমায়।

  • ধূমপান পরিহার ও পরিষ্কার পরিবেশে থাকা: ফুসফুস সুরক্ষিত রাখে।

নিউমোনিয়া থেকে বাঁচতে সময়মতো টিকা, সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সামান্য সচেতনতা রাখলেই এই প্রাণঘাতী রোগের ভয়াবহতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউমোনিয়া থেকে সুরক্ষিত থাকতে যা করবেন

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর সারা বিশ্বে ২৫ লাখের বেশি মানুষ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, যার অর্ধেকের বেশি পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। বাংলাদেশেও এখনো শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই রোগ।

নিউমোনিয়া মূলত ফুসফুসের প্রদাহজনিত সংক্রমণ, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। সংক্রমণের ফলে ফুসফুসের ছোট বায়ুথলিগুলো তরল বা পুঁজে ভরে যায়, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, নিউমোনিয়া শুধু একটি রোগ নয়—এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সামাজিক সচেতনতার প্রতিফলন।

কীভাবে ছড়ায় ও কারা ঝুঁকিতে

সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে, যা নিশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। এ ছাড়া দূষিত বস্তু বা হাত দিয়ে মুখ-নাক স্পর্শ করলেও রোগ ছড়াতে পারে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। পাশাপাশি দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যক্তি, ধূমপায়ী, অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ এবং দূষিত পরিবেশে বসবাসকারীরাও ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

উপসর্গ ও চিকিৎসা

নিউমোনিয়ায় সাধারণত জ্বর ও কাঁপুনি, কাশি, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। শিশুদের খাওয়ায় অনীহা বা বয়স্কদের মানসিক বিভ্রান্তিও হতে পারে। গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি ও অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়, আর ভাইরাল ক্ষেত্রে বিশ্রাম ও উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাই যথেষ্ট।

প্রতিরোধের উপায়

নিউমোনিয়া প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ।

  • টিকা গ্রহণ: নিউমোকোক্কাল ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নিউমোনিয়া প্রতিরোধে কার্যকর।

  • সুষম খাদ্য: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

  • হাত ধোয়া ও মাস্ক ব্যবহার: জীবাণু সংক্রমণ কমায়।

  • ধূমপান পরিহার ও পরিষ্কার পরিবেশে থাকা: ফুসফুস সুরক্ষিত রাখে।

নিউমোনিয়া থেকে বাঁচতে সময়মতো টিকা, সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সামান্য সচেতনতা রাখলেই এই প্রাণঘাতী রোগের ভয়াবহতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।