Hi

০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আপনাদের ওপর আল্লাহর গজব পড়বে’: খালেদা জিয়ার কান্নাজড়িত অভিযোগ সত্য হলো

  • মো. লিমন
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৬ জন দেখেছে

কয়েক মাস আগে শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে অবস্থিত তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। একই সময়ে তার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার বাড়ি সুধা সদনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। তার অন্যান্য সম্পদও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিদেশে থাকা অবস্থায় শুনতে হলো তার ফাঁসির রায়, যা দেশে ফিরলে কার্যকর হবে।

এ পরিস্থিতিতে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বরের ঘটনা অনলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেদিন খালেদা জিয়াকে তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। উচ্ছেদের পর ক্রন্দনরত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দম্ভভরে নানা তাচ্ছিল্য ও উপহাসমূলক মন্তব্য করেছিলেন শেখ হাসিনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি নিশ্চিহ্ন করা হয়।

কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন,
“তাকে বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের হয়ে আসতে হয়েছে। টানেহিঁচড়ে সেখান থেকে বের করা হয়েছে। আমি প্রায় ৪০ বছর এই বাড়িতে কাটিয়েছি। আমার স্বামী জীবন দেওয়ার পর তার অনেক স্মৃতি নিয়ে এই বাড়িতে ছিলাম।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন,
“আমার বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। সারাদিন আমাকে কিছু খেতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অথচ তারা মিথ্যা বলছে যে আমি স্বেচ্ছায় চলে গেছি। সব মিথ্যা, বানোয়াট। ‘নিজে যেতে না চাইলে তুলে নিয়ে যাও’—বলও একজন হুমকি দিয়েছে।”

খালেদা জিয়া বলেন,
“তারা জবরদস্তি আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। গ্রিল কেটে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছে। আমার লোকজনকে মারধর করেছে। লাথি মেরে মেরে বেডরুমের দরজা ভেঙেছে। আমাকে টানতে টানতে বাইরে এনেছে। আমি বিরোধী দলের নেত্রী। তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী ছিলাম, সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রী হিসাবেও সামান্য মর্যাদাটুকুও আমাকে দেখানো হয়নি। এতেই আমরা বুঝতে পারি এই সরকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে।”

শেষে তিনি বলেন,
“আমি এর বিচারের ভার মহান আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিলাম। দেশবাসীর কাছে ছেড়ে দিলাম।”

এই ঘটনায় খালেদা জিয়ার উক্তি ও ঘটনার বর্ণনা সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বসহকারে দেখছেন। তারা মনে করেন, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিরোধী দলের প্রতি সহিংস আচরণের চরম উদাহরণ।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আপনাদের ওপর আল্লাহর গজব পড়বে’: খালেদা জিয়ার কান্নাজড়িত অভিযোগ সত্য হলো

আপডেট সময় : ১২:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

কয়েক মাস আগে শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে অবস্থিত তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। একই সময়ে তার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার বাড়ি সুধা সদনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। তার অন্যান্য সম্পদও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিদেশে থাকা অবস্থায় শুনতে হলো তার ফাঁসির রায়, যা দেশে ফিরলে কার্যকর হবে।

এ পরিস্থিতিতে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বরের ঘটনা অনলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেদিন খালেদা জিয়াকে তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। উচ্ছেদের পর ক্রন্দনরত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দম্ভভরে নানা তাচ্ছিল্য ও উপহাসমূলক মন্তব্য করেছিলেন শেখ হাসিনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি নিশ্চিহ্ন করা হয়।

কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন,
“তাকে বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের হয়ে আসতে হয়েছে। টানেহিঁচড়ে সেখান থেকে বের করা হয়েছে। আমি প্রায় ৪০ বছর এই বাড়িতে কাটিয়েছি। আমার স্বামী জীবন দেওয়ার পর তার অনেক স্মৃতি নিয়ে এই বাড়িতে ছিলাম।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন,
“আমার বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। সারাদিন আমাকে কিছু খেতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অথচ তারা মিথ্যা বলছে যে আমি স্বেচ্ছায় চলে গেছি। সব মিথ্যা, বানোয়াট। ‘নিজে যেতে না চাইলে তুলে নিয়ে যাও’—বলও একজন হুমকি দিয়েছে।”

খালেদা জিয়া বলেন,
“তারা জবরদস্তি আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। গ্রিল কেটে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছে। আমার লোকজনকে মারধর করেছে। লাথি মেরে মেরে বেডরুমের দরজা ভেঙেছে। আমাকে টানতে টানতে বাইরে এনেছে। আমি বিরোধী দলের নেত্রী। তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী ছিলাম, সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রী হিসাবেও সামান্য মর্যাদাটুকুও আমাকে দেখানো হয়নি। এতেই আমরা বুঝতে পারি এই সরকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে।”

শেষে তিনি বলেন,
“আমি এর বিচারের ভার মহান আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিলাম। দেশবাসীর কাছে ছেড়ে দিলাম।”

এই ঘটনায় খালেদা জিয়ার উক্তি ও ঘটনার বর্ণনা সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বসহকারে দেখছেন। তারা মনে করেন, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিরোধী দলের প্রতি সহিংস আচরণের চরম উদাহরণ।