২০২৬ সালের বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চারদিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে। এই প্রথমবারের মতো তিনি বাংলাদেশ সফর করতে যাচ্ছেন। সফরকালীন তিনি সরকার, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, তিনি ২০ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবেন। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব আলোচনার গুরুত্ব থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাক–নির্বাচনী মূল্যায়নের ধারাবাহিকতা
কমনওয়েলথ মহাসচিবের এই সফর গত মাসে ঢাকায় আগত কমনওয়েলথের প্রাক–নির্বাচনী মূল্যায়ন দলের মিশনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূল্যায়ন দলটি তখন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক অবস্থান ঘনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করে। এবার মহাসচিব নিজে এসে ওই মূল্যায়নের ফলাফল ও আগাম পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কার কার সঙ্গে বৈঠক
লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, শার্লি বচওয়ে ঢাকায় অবস্থানকালে—
-
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
-
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)
-
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ
-
হাইকমিশনার এবং অন্য রাষ্ট্রদূত
-
নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির সঙ্গে
বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় তিনি কমনওয়েলথের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা সম্পর্কেও ব্রিফ করবেন, যার অন্যতম স্তম্ভ হলো গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা।
বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বললেন মহাসচিব
সফরের আগে দেওয়া বিবৃতিতে কমনওয়েলথ মহাসচিব বাংলাদেশকে “কমনওয়েলথের একটি মূল্যবান ও ঐতিহাসিক সদস্য” বলে উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ প্রথম যে আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগ দিয়েছিল, তা ছিল কমনওয়েলথ।
তিনি আরও বলেন—
কমনওয়েলথ এবং বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ দিনের একটি দৃঢ় অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও অধিকারের ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে অভিন্ন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে সহযোগিতা জোরদার
বাংলাদেশের জনগণ আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, কমনওয়েলথ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় সম্পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবে। রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে
কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই সফর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, গণতন্ত্র রক্ষা এবং রাজনৈতিক সংলাপ জোরদার করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশ–কমনওয়েলথ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
মো. লিমন 








