Hi

১১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাইটানিক দুর্ঘটনার ইসিডর স্ট্রাউসের স্বর্ণের পকেট ঘড়ি নিলামে রেকর্ড মূল্যে বিক্রি

টাইটানিক দুর্ঘটনায় নিহত ধনী যাত্রীদের একজন, ইসিডর স্ট্রাউসের মরদেহ থেকে উদ্ধার করা একটি স্বর্ণের পকেট ঘড়ি সম্প্রতি নিলামে রেকর্ড ১৭ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ২৮ কোটি টাকার সমমূল্য। এই ধরনের সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর জন্য এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিবিসির প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল সাউদ্যাম্পটন থেকে নিউইয়র্কগামী টাইটানিকে ইসিডর ও তার স্ত্রী আইডা স্ট্রাউস করে ভ্রমণে ছিলেন। জাহাজটি বরফখণ্ডে আঘাত পেয়ে ডুবে গেলে তারা দু’জনেই প্রাণ হারান। ওই দুর্ঘটনায় মোট ১৫০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়।

কয়েক দিন পর আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ইসিডরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের সঙ্গে পাওয়া যায় ১৮ ক্যারেটের জুলেস জারগেনসেন ব্র্যান্ডের স্বর্ণের পকেট ঘড়ি, যা পরবর্তী চার প্রজন্ম ধরে পরিবার সংরক্ষণ করে রেখেছিল। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের ডিভাইজেস শহরের হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন নিলাম ঘরে ঘড়িটি তোলা হলে রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হয়।

ইসিডর স্ট্রাউস জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং নিউইয়র্কের মেসিজ ডিপার্টমেন্ট স্টোরের সহ-মালিক। টাইটানিক ডুবির রাতে আইডাকে লাইফবোটে ওঠার জন্য বলা হলেও তিনি তাকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং স্বামী ইসিডরের সঙ্গেই মৃত্যুবরণ করেন। আইডার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিলামের অন্যান্য টাইটানিক-স্মারকও উল্লেখযোগ্য দামে বিক্রি হয়েছে। আইডা স্ট্রাউসের চিঠি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ পাউন্ডে, জাহাজের যাত্রী তালিকা ১ লাখ ৪ হাজার পাউন্ডে, আর রেসকিউ জাহাজ আরএমএস কারপাথিয়ার নাবিকদের দেওয়া স্বর্ণপদক বিক্রি হয়েছে ৮৬ হাজার পাউন্ডে। সব মিলিয়ে এই নিলাম থেকে প্রায় ৩০ লাখ পাউন্ড অর্জিত হয়েছে।

নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, ঘড়িটির অভূতপূর্ব মূল্য টাইটানিককে ঘিরে মানুষের দীর্ঘদিনের আগ্রহেরই প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, টাইটানিকের প্রতিটি যাত্রী ও নাবিকের আলাদা গল্প রয়েছে, যা ১১৩ বছর পরও স্মারকের মাধ্যমে ফিরে আসে। বিশেষভাবে স্ট্রাউস দম্পতির সম্পর্ককে তিনি টাইটানিকের এক ‘অক্ষয় প্রেমের গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেন। আইডার স্বামীকে ছাড়তে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই ভালোবাসার গভীরতার প্রতিফলন, যা ঘড়িটির রেকর্ডমূল্যে বিক্রির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপিত হয়েছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

টাইটানিক দুর্ঘটনার ইসিডর স্ট্রাউসের স্বর্ণের পকেট ঘড়ি নিলামে রেকর্ড মূল্যে বিক্রি

আপডেট সময় : ০৪:২৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

টাইটানিক দুর্ঘটনায় নিহত ধনী যাত্রীদের একজন, ইসিডর স্ট্রাউসের মরদেহ থেকে উদ্ধার করা একটি স্বর্ণের পকেট ঘড়ি সম্প্রতি নিলামে রেকর্ড ১৭ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ২৮ কোটি টাকার সমমূল্য। এই ধরনের সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর জন্য এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিবিসির প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল সাউদ্যাম্পটন থেকে নিউইয়র্কগামী টাইটানিকে ইসিডর ও তার স্ত্রী আইডা স্ট্রাউস করে ভ্রমণে ছিলেন। জাহাজটি বরফখণ্ডে আঘাত পেয়ে ডুবে গেলে তারা দু’জনেই প্রাণ হারান। ওই দুর্ঘটনায় মোট ১৫০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়।

কয়েক দিন পর আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ইসিডরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের সঙ্গে পাওয়া যায় ১৮ ক্যারেটের জুলেস জারগেনসেন ব্র্যান্ডের স্বর্ণের পকেট ঘড়ি, যা পরবর্তী চার প্রজন্ম ধরে পরিবার সংরক্ষণ করে রেখেছিল। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের ডিভাইজেস শহরের হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন নিলাম ঘরে ঘড়িটি তোলা হলে রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হয়।

ইসিডর স্ট্রাউস জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং নিউইয়র্কের মেসিজ ডিপার্টমেন্ট স্টোরের সহ-মালিক। টাইটানিক ডুবির রাতে আইডাকে লাইফবোটে ওঠার জন্য বলা হলেও তিনি তাকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং স্বামী ইসিডরের সঙ্গেই মৃত্যুবরণ করেন। আইডার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিলামের অন্যান্য টাইটানিক-স্মারকও উল্লেখযোগ্য দামে বিক্রি হয়েছে। আইডা স্ট্রাউসের চিঠি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ পাউন্ডে, জাহাজের যাত্রী তালিকা ১ লাখ ৪ হাজার পাউন্ডে, আর রেসকিউ জাহাজ আরএমএস কারপাথিয়ার নাবিকদের দেওয়া স্বর্ণপদক বিক্রি হয়েছে ৮৬ হাজার পাউন্ডে। সব মিলিয়ে এই নিলাম থেকে প্রায় ৩০ লাখ পাউন্ড অর্জিত হয়েছে।

নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, ঘড়িটির অভূতপূর্ব মূল্য টাইটানিককে ঘিরে মানুষের দীর্ঘদিনের আগ্রহেরই প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, টাইটানিকের প্রতিটি যাত্রী ও নাবিকের আলাদা গল্প রয়েছে, যা ১১৩ বছর পরও স্মারকের মাধ্যমে ফিরে আসে। বিশেষভাবে স্ট্রাউস দম্পতির সম্পর্ককে তিনি টাইটানিকের এক ‘অক্ষয় প্রেমের গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেন। আইডার স্বামীকে ছাড়তে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই ভালোবাসার গভীরতার প্রতিফলন, যা ঘড়িটির রেকর্ডমূল্যে বিক্রির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপিত হয়েছে।