রাঙামাটিতে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক, প্রশাসনিক এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিবেশগত অনুমোদন পাওয়ার আগেই কাজ শুরু করেছে। অনুমোদনের চেয়ে বেশি পাহাড় কাটা হয়েছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। উপাচার্য মো. আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান পাহাড়ের ওপর। তাই কিছু মাটি কাটার প্রয়োজন অপরিহার্য। তবে অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় বেশি কাটা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনুমোদনের আগে কোনো পাহাড় কাটা চলবে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই চারটি ভবনের জন্য সাত লাখ উনিশ হাজার ঘনফুট পাহাড় কেটে ফেলেছে। অনুমোদিত পরিমাণ ছিল মাত্র পাঁচ লাখ নয় হাজার ঘনফুট। ফলে আড়াই ফুটবল মাঠের সমান অতিরিক্ত পাহাড় কাটা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জমির উদ্দিন বলেছেন, এভাবে পাহাড় কাটায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি একাডেমিক ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি ছাত্র হল এবং একটি ছাত্রী হল। সব ভবন তিনতলাবিশিষ্ট। ইতিমধ্যেই তিনটি ভবনের বেজমেন্টের কাজ শেষ হয়েছে। ছাত্র হলের বেজমেন্টের কাজও প্রায় শেষ। উপাচার্য মো. আতিয়ার রহমান বলেন, ভবনের নকশা অনুযায়ী যেটুকু মাটি কাটার কথা, হয়তো তার চেয়ে বেশি কাটা হয়েছে। কেন বেশি কাটা হলো, সে বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ভালো জানবেন।
২০১৭ সালে পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় জেলার প্রধান সড়কগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড় কাটা হলে বর্ষার সময় মাটি ধসে ভবন ও মানুষের জীবন ও সম্পত্তি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. আল-আমীন বলেছেন, রাঙামাটিতে যে ধরনের স্থাপনাই হোক, অবশ্যই পাহাড়কে বিবেচনা করে করতে হবে। এখন অনুমোদিত পাঁচ লাখ ঘনফুট পাহাড়ের পরিবর্তে সাত লাখ ঘনফুট কাটা হয়েছে। এর প্রভাব আরও বেশি হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবন নির্মাণের জন্য কিছু পাহাড় কাটা অনিবার্য। তবে অনুমোদিত পরিমাণের বেশি পাহাড় কাটা এবং পরিবেশগত অনুমোদনের আগে কাজ শুরু হওয়ায় বিষয়টি উদ্বেগজনক। পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে পাহাড়ধস বা পরিবেশগত ক্ষতি রোধ করা যায়।
জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ প্রতিবেদন 








