বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে চরমোনাই দরবার শরিফ মাদ্রাসার বিশাল মাঠ লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। আজ বুধবার (জোহর নামাজের পর) চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী মাহফিলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
মাহফিল উপলক্ষে ময়দানে মুসল্লিদের ভিড় মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়। আজ সকালেই মাদ্রাসার দুইটি বিশাল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠগুলোকে শামিয়ানায় আবৃত করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা মাহফিলে যোগ দেবেন।
উদ্বোধনী বয়ানে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, “এখানে দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আসার প্রয়োজন নেই। যদি কেউ এসেছে, তবে নিজের নিয়ত পরিবর্তন করে আত্মশুদ্ধির জন্য প্রস্তুতি নিন। ব্যক্তিজীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে ইসলামের আলোকে পরিচালিত করলেই সত্যিকারের মুক্তি আসবে।”
মাহফিলের সূচনা ১৯২৪ সালে। প্রতিবছর বাংলা মাস অনুযায়ী অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুনে দুটি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অগ্রহায়ণে তুলনামূলক ছোট পরিসরে এবং ফাল্গুন মাহফিলে বৃহত্তর পরিসরে আয়োজন করা হয়। তিন দিনের মাহফিলের শেষ দিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মাহফিল সমাপ্ত হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বায়ক কে এম শরীয়াতুল্লাহ জানান, প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় সাতটি প্রধান বয়ান অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী ও সমাপনী বয়ান পেশ করবেন চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। মাঝের তিনটি বয়ান পেশ করবেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। এছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় দরবারগুলোর পীর ও উলামারা মাহফিলে বয়ান করবেন।
মাহফিলের প্রথম দিনে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন দেশে আগত উলামাদের নিয়ে ওলামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। শেষ দিনে ছাত্র-জনতার জন্য গণজমায়েতের আয়োজন থাকবে। এছাড়া যুবক ও শ্রমিকদের জন্য ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ বিশেষ মতবিনিময় সভা আয়োজন করবে।
বরিশাল প্রতিনিধি,জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ 








