Hi

১১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীলংকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’-এর তাণ্ডবে শ্রীলংকা এখন নজিরবিহীন বন্যা–বিপর্যয়ের মুখে। টানা এক সপ্তাহের ভারি বর্ষণে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস। দেশের অন্তত এক–তৃতীয়াংশ অঞ্চল বিদ্যুৎ–পানি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির মতে, এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২, আর নিখোঁজ রয়েছেন ১৭৬ জন। ঘরবাড়ি, রাস্তা–ঘাট, সেতু—সবই পানির তোড়ে ভেসে গেছে বা ধসে পড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানায়, ১৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ৭৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দেশজুড়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী। শুধু অনুরাধাপুরা জেলাতেই গত ২৪ ঘণ্টায় হেলিকপ্টার ও নৌকা ব্যবহার করে এক জার্মান পর্যটকসহ ৬৯ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমসির মহাপরিচালক সম্পাথ কোটুউইগোদা জানান, তিন বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।

উদ্ধার পাওয়া এক বাসযাত্রী স্থানীয় হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, “নৌবাহিনীর সদস্যরা রশি ধরে আমাদের বন্যার স্রোত পার করিয়েছেন। পরে কাছের একটি বাড়ির ছাদে তুলে নিয়ে যান।”

মধ্যাঞ্চলের বদুল্লা জেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বহু সড়ক ধসে পড়ায় গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মাসপান্না গ্রামের বাসিন্দা সামান কুমারা জানান, “আমাদের গ্রামে দু’জন মারা গেছেন। বাকিরা মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছে। রাস্তাঘাট মাটিতে চাপা পড়ে থাকায় আমরা বের হতে পারছি না। খাবার নেই, পরিষ্কার পানিও নেই।”

বন্যার নাজুক অবস্থায় দেশের বহু এলাকায় বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবে গেছে পানি পরিশোধন কেন্দ্র; ভেঙে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। ইন্টারনেট সংযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকায়।

শ্রীলংকার নিকট দিয়ে সরে গিয়ে শনিবার থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে চেন্নাই বিমানবন্দর ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা প্রবল বর্ষণ ও ঝোড়ো বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে মধ্যাঞ্চলের ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস হয়েছে। রাজধানী কলম্বো থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরের এ জেলার প্রধান সড়কের বড় অংশ ডুবে গেছে পানির নিচে।

চরম বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে শ্রীলংকা সরকার। বিদেশে অবস্থানরত শ্রীলংকানদেরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নগদ সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলংকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আপডেট সময় : ১১:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’-এর তাণ্ডবে শ্রীলংকা এখন নজিরবিহীন বন্যা–বিপর্যয়ের মুখে। টানা এক সপ্তাহের ভারি বর্ষণে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস। দেশের অন্তত এক–তৃতীয়াংশ অঞ্চল বিদ্যুৎ–পানি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির মতে, এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২, আর নিখোঁজ রয়েছেন ১৭৬ জন। ঘরবাড়ি, রাস্তা–ঘাট, সেতু—সবই পানির তোড়ে ভেসে গেছে বা ধসে পড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানায়, ১৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ৭৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দেশজুড়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী। শুধু অনুরাধাপুরা জেলাতেই গত ২৪ ঘণ্টায় হেলিকপ্টার ও নৌকা ব্যবহার করে এক জার্মান পর্যটকসহ ৬৯ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমসির মহাপরিচালক সম্পাথ কোটুউইগোদা জানান, তিন বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।

উদ্ধার পাওয়া এক বাসযাত্রী স্থানীয় হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, “নৌবাহিনীর সদস্যরা রশি ধরে আমাদের বন্যার স্রোত পার করিয়েছেন। পরে কাছের একটি বাড়ির ছাদে তুলে নিয়ে যান।”

মধ্যাঞ্চলের বদুল্লা জেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বহু সড়ক ধসে পড়ায় গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মাসপান্না গ্রামের বাসিন্দা সামান কুমারা জানান, “আমাদের গ্রামে দু’জন মারা গেছেন। বাকিরা মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছে। রাস্তাঘাট মাটিতে চাপা পড়ে থাকায় আমরা বের হতে পারছি না। খাবার নেই, পরিষ্কার পানিও নেই।”

বন্যার নাজুক অবস্থায় দেশের বহু এলাকায় বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবে গেছে পানি পরিশোধন কেন্দ্র; ভেঙে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। ইন্টারনেট সংযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকায়।

শ্রীলংকার নিকট দিয়ে সরে গিয়ে শনিবার থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে চেন্নাই বিমানবন্দর ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা প্রবল বর্ষণ ও ঝোড়ো বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে মধ্যাঞ্চলের ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস হয়েছে। রাজধানী কলম্বো থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরের এ জেলার প্রধান সড়কের বড় অংশ ডুবে গেছে পানির নিচে।

চরম বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে শ্রীলংকা সরকার। বিদেশে অবস্থানরত শ্রীলংকানদেরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নগদ সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।