Hi

০৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লবণচরের তিন মরদেহ: তদন্তে বেরিয়ে এলো চমকপ্রদ তথ্য

গত ১৬ নভেম্বর লবণচরার টুটপাড়া দরবেশ মোল্লা গলির বাড়ি থেকে নানি ও দুই নাতি-নাতনির লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ

খুলনা নগরের লবণচরা থানায় ঘটানো ট্রিপল হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যার মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে জেলে বসে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে জেল থেকে বেরিয়ে এক লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়।

গত ১৬ নভেম্বর লবণচরার টুটপাড়া দরবেশ মোল্লা গলির বাড়ি থেকে নানি এবং দুই নাতি-নাতনির লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—মহিদুন্নেছা (৫৫), তার নাতি মোস্তাকিম (৮) ও নাতনি ফাতিহা (৬)। শিশু দুটি শেফার আহমেদ ও রুবি আক্তার দম্পতির সন্তান। সকালে তারা সন্তানদের নানির কাছে রেখে কাজে বের হন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে কাউকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মুরগির খামারের ভেতর তিনজনের লাশ দেখে পুলিশকে জানান। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ জানান, ১৮ নভেম্বর নিহত দুই শিশুর বাবা লবণচরা থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যার মূলহোতা শামীম আহমেদকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়। আদালতে হাজির হলে শামীম হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দির বরাত দিয়ে কমিশনার জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে খুনি ভাড়া করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যায় সাতজন অংশ নেয়। দুজন বাড়ির বাইরে থেকে দেখাশোনা করেছিল। পাঁচজন ঘরে ঢুকে সরাসরি হত্যা করে। ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নিহতদের হত্যা করা হয়।

হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে শেফার আহমেদের সঙ্গে মামাতো ভাই শামীমের মধ্যে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০০৩ সালে শামীম অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন। পরে ফ্রান্সে চলে যান এবং ২০১৭ সালে দেশে ফেরেন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর শামীম একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরিবারের হত্যার পরিকল্পনা করেন। ১৬ নভেম্বর দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে শামীমের নেতৃত্বে সাতজন শেফারের বাড়িতে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করে।

শামীম ঘটনার দিন থেকে পলাতক ছিল। ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে বুধবার রাত ৩টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন লবণচরার আরও দুই সহযোগী—তারিকুল ইসলাম তারেক (২৬) ও তাফসির হাওলাদার (২০)—গ্রেফতার হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও চুরি-ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। শামীম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানায়, হত্যার পর ভাড়াটে খুনিদের এক লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কেএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শিহাব করিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ত.ম. রোকনুজ্জামান, সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম মোর্শেদ, লবণচরা থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম এবং নিহত দুই শিশুর বাবা-মা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

লবণচরের তিন মরদেহ: তদন্তে বেরিয়ে এলো চমকপ্রদ তথ্য

আপডেট সময় : ১২:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

খুলনা নগরের লবণচরা থানায় ঘটানো ট্রিপল হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যার মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে জেলে বসে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে জেল থেকে বেরিয়ে এক লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়।

গত ১৬ নভেম্বর লবণচরার টুটপাড়া দরবেশ মোল্লা গলির বাড়ি থেকে নানি এবং দুই নাতি-নাতনির লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—মহিদুন্নেছা (৫৫), তার নাতি মোস্তাকিম (৮) ও নাতনি ফাতিহা (৬)। শিশু দুটি শেফার আহমেদ ও রুবি আক্তার দম্পতির সন্তান। সকালে তারা সন্তানদের নানির কাছে রেখে কাজে বের হন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে কাউকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মুরগির খামারের ভেতর তিনজনের লাশ দেখে পুলিশকে জানান। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ জানান, ১৮ নভেম্বর নিহত দুই শিশুর বাবা লবণচরা থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যার মূলহোতা শামীম আহমেদকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়। আদালতে হাজির হলে শামীম হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দির বরাত দিয়ে কমিশনার জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে খুনি ভাড়া করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যায় সাতজন অংশ নেয়। দুজন বাড়ির বাইরে থেকে দেখাশোনা করেছিল। পাঁচজন ঘরে ঢুকে সরাসরি হত্যা করে। ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নিহতদের হত্যা করা হয়।

হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে শেফার আহমেদের সঙ্গে মামাতো ভাই শামীমের মধ্যে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০০৩ সালে শামীম অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন। পরে ফ্রান্সে চলে যান এবং ২০১৭ সালে দেশে ফেরেন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর শামীম একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরিবারের হত্যার পরিকল্পনা করেন। ১৬ নভেম্বর দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে শামীমের নেতৃত্বে সাতজন শেফারের বাড়িতে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করে।

শামীম ঘটনার দিন থেকে পলাতক ছিল। ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে বুধবার রাত ৩টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন লবণচরার আরও দুই সহযোগী—তারিকুল ইসলাম তারেক (২৬) ও তাফসির হাওলাদার (২০)—গ্রেফতার হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও চুরি-ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। শামীম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানায়, হত্যার পর ভাড়াটে খুনিদের এক লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কেএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শিহাব করিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ত.ম. রোকনুজ্জামান, সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম মোর্শেদ, লবণচরা থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম এবং নিহত দুই শিশুর বাবা-মা উপস্থিত ছিলেন।