সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একের পর এক ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছিল, যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জুলাই গণহত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। বিশেষ করে, পুরোনো গ্রেনেড উদ্ধারের একটি ছবি ব্যবহার করে জয় নিজের ফেসবুক পেজে সেটি শেয়ার করেছিলেন।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট এই বিষয়টি অনুসন্ধান করে ভুয়া দাবিটি শনাক্ত করেছে। বাংলাফ্যাক্ট জানায়, পোস্টে শেয়ার করা ছবিটি ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরাগাছ তলা এলাকা থেকে যৌথবাহিনী পরিত্যক্ত অবস্থায় নয়টি গ্রেনেড উদ্ধার করার সময় তোলা। কিন্তু পোস্টের ক্যাপশন দাবি করেছিল, এটি অন্য কোনো সময়ের ঘটনা, যা সত্য নয়।
বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় গরুর হাটের পাশে ঝোপ থেকে চারটি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। জয়ের শেয়ার করা ছবিটি সেটির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ছবিটি পুরোনো ঘটনা থেকেই নেওয়া হয়েছে, যা ভুল তথ্য ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম, ভারত থেকে পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন দেশের ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রচারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর একটি উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাফ্যাক্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেশি-বিদেশি অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তৈরি সাজানো ভিডিও, নাটিকা বা চিত্রনাট্যের অংশ বিশেষকে বাস্তব ঘটনা দাবি করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর খবর যাচাই করে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত ও যাচাই করার দায়িত্ব বাংলাফ্যাক্ট পালন করছে। এর মাধ্যমে দেশের জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান এবং গুজব প্রতিরোধে সাহায্য করা হচ্ছে।
জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ প্রতিবেদন 








