Hi

০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাদের পকেট মারা সবচেয়ে সহজ?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০০ জন দেখেছে

লুইস গানসন নামের এক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট বর্তমানে দারুণ ভাইরাল হয়েছে। তাঁর পোস্টের শিরোনাম ছিল— ‘আমি একজন পকেটমারকে জিজ্ঞেস করেছি, তারা কাদের টার্গেট করে। উত্তর শুনে আমি তখনই নিজের জ্যাকেট বদলেছি।’—এমন শিরোনামই নেটিজেনদের কৌতূহলী করে তুলেছে। পোস্টটি প্রকাশের পরই তা ১২ মিলিয়নের বেশি ভিউ ছুঁয়েছে।

লুইস জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি সরাসরি একজন পেশাদার পকেটমারের সঙ্গে কথা বলেছেন। উদ্দেশ্য ছিল জানতে চাওয়া—পকেটমাররা ঠিক কোন ধরনের মানুষকে লক্ষ্য করে? সাধারণ ধারণা হলো—যাঁদের দেখে তুলনামূলক ধনী মনে হয় কিংবা দামী পোশাক পরেন, তারা সহজ টার্গেট। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন।

পকেটমারের মতে, তারা কখনোই কারো ধনী–গরিব দেখার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় না। তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে—কে সবচেয়ে অসাবধান, কার থেকে চুরি করা সবচেয়ে সহজ। অর্থাৎ যার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন, যিনি নিজের জিনিসপত্র ঠিকভাবে গুছিয়ে রাখেন না—তারাই প্রথম সারির শিকার।

লুইসের সঙ্গে পকেটমারের আলাপ থেকে বেরিয়ে এসেছে ৭ ধরনের মানুষের তালিকা—যাদের সবচেয়ে বেশি টার্গেট করা হয়।

১. যারা ফোনে ডুবে থাকেন
রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলা, বারবার ফোন চেক করা অথবা পুরো মনোযোগ স্ক্রিনে রাখলে আশপাশ দেখা হয় না। পকেটমারেরা ঠিক তখনই সুযোগ নেয়, কারণ ভুক্তভোগীর মনোযোগ পুরোটা অন্যদিকে থাকে।

২. যারা পেছনের পকেটে মোবাইল বা মানিব্যাগ রাখেন
পেছনের পকেটে রাখা মানেই সেটা যেন পকেটমারের জন্য ‘ওপেন ইনভাইটেশন’। লুইসের সাক্ষাৎকারে ওই পকেটমার হেসে বলেন, ‘পেছনের পকেটে যা থাকে, আমরা প্রায়ই ধরে নিই এগুলো আমাদেরই। আর কারও ব্যাগের চেইন খোলা থাকলে তো সেটি পুরোপুরি বোনাস—যে চোর নিতে পারবে না, সে-ই ব্যর্থ।’

৩. যাদের চিন্তিত, বিভ্রান্ত বা অস্থির দেখায়
যারা মাথা নিচু করে হাঁটেন, নানা চিন্তায় ডুবে থাকেন বা চারপাশ লক্ষ্য করেন না—তাদের সহজেই পকেট মারা যায়।

৪. যারা সব সময় তাড়াহুড়ায় থাকেন
রাস্তায় দ্রুত হাঁটা, ব্যস্ততায় ছুটে চলা বা অন্য কাজের মধ্যে দৌঁড়াদৌঁড়ি—এসবের কারণে নিজের জিনিসপত্রের নিরাপত্তায় মনোযোগ থাকে না। পকেটমারেরা সেই অমনোযোগকেই টার্গেট করে।

৫. যারা ঢিলেঢালা জ্যাকেট বা পোশাক পরেন
ঢিলেঢালা পোশাকে হাত ঢুকিয়ে কিছু বের করা সহজ। আবার এমন পোশাক পরলে অনেক সময় মানুষ টেরই পান না যে কেউ তার পকেট বা ব্যাগে হাত দিয়েছে।

৬. যারা ভিড় বা পাবলিক প্লেসে বারবার নিজের মূল্যবান জিনিস স্পর্শ করেন
পকেটমারেরা ভিড়ের মধ্যে মানুষের আচার–আচরণ খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করে। কেউ যদি বারবার নিজের ফোন বা মানিব্যাগ যেখানে রাখা আছে সেটাতে হাত দেয়, চোর সহজেই বুঝে যায়—মূল্যবান জিনিসটা ঠিক কোথায় আছে।

৭. যারা দলে থেকেও অমনোযোগী
পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে থাকলেও অনেকেই নিজের নিরাপত্তায় সচেতন হন না। তাদের মনে হয়—দলেই আছি, কিছু হবে না। কিন্তু এ ধরনের অসাবধানতাই পকেটমারদের সবচেয়ে বড় সুযোগ। কারণ ভিড়ের মধ্যে কে কী নিল, সে বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সাধারণত তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারেন না।

লুইস গানসনের এই পোস্টে অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং লিখেছেন—এই তালিকা দেখে তারা ভবিষ্যতে বেশি সচেতন থাকবেন। লুইস নিজেও বলেছেন, সাক্ষাৎকারটি শোনার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের জ্যাকেট বদলে ফেলেছেন এবং পোশাক–পরিচ্ছদে আরও সতর্ক হচ্ছেন।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

কাদের পকেট মারা সবচেয়ে সহজ?

আপডেট সময় : ০৪:২১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

লুইস গানসন নামের এক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট বর্তমানে দারুণ ভাইরাল হয়েছে। তাঁর পোস্টের শিরোনাম ছিল— ‘আমি একজন পকেটমারকে জিজ্ঞেস করেছি, তারা কাদের টার্গেট করে। উত্তর শুনে আমি তখনই নিজের জ্যাকেট বদলেছি।’—এমন শিরোনামই নেটিজেনদের কৌতূহলী করে তুলেছে। পোস্টটি প্রকাশের পরই তা ১২ মিলিয়নের বেশি ভিউ ছুঁয়েছে।

লুইস জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি সরাসরি একজন পেশাদার পকেটমারের সঙ্গে কথা বলেছেন। উদ্দেশ্য ছিল জানতে চাওয়া—পকেটমাররা ঠিক কোন ধরনের মানুষকে লক্ষ্য করে? সাধারণ ধারণা হলো—যাঁদের দেখে তুলনামূলক ধনী মনে হয় কিংবা দামী পোশাক পরেন, তারা সহজ টার্গেট। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন।

পকেটমারের মতে, তারা কখনোই কারো ধনী–গরিব দেখার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় না। তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে—কে সবচেয়ে অসাবধান, কার থেকে চুরি করা সবচেয়ে সহজ। অর্থাৎ যার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন, যিনি নিজের জিনিসপত্র ঠিকভাবে গুছিয়ে রাখেন না—তারাই প্রথম সারির শিকার।

লুইসের সঙ্গে পকেটমারের আলাপ থেকে বেরিয়ে এসেছে ৭ ধরনের মানুষের তালিকা—যাদের সবচেয়ে বেশি টার্গেট করা হয়।

১. যারা ফোনে ডুবে থাকেন
রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলা, বারবার ফোন চেক করা অথবা পুরো মনোযোগ স্ক্রিনে রাখলে আশপাশ দেখা হয় না। পকেটমারেরা ঠিক তখনই সুযোগ নেয়, কারণ ভুক্তভোগীর মনোযোগ পুরোটা অন্যদিকে থাকে।

২. যারা পেছনের পকেটে মোবাইল বা মানিব্যাগ রাখেন
পেছনের পকেটে রাখা মানেই সেটা যেন পকেটমারের জন্য ‘ওপেন ইনভাইটেশন’। লুইসের সাক্ষাৎকারে ওই পকেটমার হেসে বলেন, ‘পেছনের পকেটে যা থাকে, আমরা প্রায়ই ধরে নিই এগুলো আমাদেরই। আর কারও ব্যাগের চেইন খোলা থাকলে তো সেটি পুরোপুরি বোনাস—যে চোর নিতে পারবে না, সে-ই ব্যর্থ।’

৩. যাদের চিন্তিত, বিভ্রান্ত বা অস্থির দেখায়
যারা মাথা নিচু করে হাঁটেন, নানা চিন্তায় ডুবে থাকেন বা চারপাশ লক্ষ্য করেন না—তাদের সহজেই পকেট মারা যায়।

৪. যারা সব সময় তাড়াহুড়ায় থাকেন
রাস্তায় দ্রুত হাঁটা, ব্যস্ততায় ছুটে চলা বা অন্য কাজের মধ্যে দৌঁড়াদৌঁড়ি—এসবের কারণে নিজের জিনিসপত্রের নিরাপত্তায় মনোযোগ থাকে না। পকেটমারেরা সেই অমনোযোগকেই টার্গেট করে।

৫. যারা ঢিলেঢালা জ্যাকেট বা পোশাক পরেন
ঢিলেঢালা পোশাকে হাত ঢুকিয়ে কিছু বের করা সহজ। আবার এমন পোশাক পরলে অনেক সময় মানুষ টেরই পান না যে কেউ তার পকেট বা ব্যাগে হাত দিয়েছে।

৬. যারা ভিড় বা পাবলিক প্লেসে বারবার নিজের মূল্যবান জিনিস স্পর্শ করেন
পকেটমারেরা ভিড়ের মধ্যে মানুষের আচার–আচরণ খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করে। কেউ যদি বারবার নিজের ফোন বা মানিব্যাগ যেখানে রাখা আছে সেটাতে হাত দেয়, চোর সহজেই বুঝে যায়—মূল্যবান জিনিসটা ঠিক কোথায় আছে।

৭. যারা দলে থেকেও অমনোযোগী
পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে থাকলেও অনেকেই নিজের নিরাপত্তায় সচেতন হন না। তাদের মনে হয়—দলেই আছি, কিছু হবে না। কিন্তু এ ধরনের অসাবধানতাই পকেটমারদের সবচেয়ে বড় সুযোগ। কারণ ভিড়ের মধ্যে কে কী নিল, সে বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সাধারণত তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারেন না।

লুইস গানসনের এই পোস্টে অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং লিখেছেন—এই তালিকা দেখে তারা ভবিষ্যতে বেশি সচেতন থাকবেন। লুইস নিজেও বলেছেন, সাক্ষাৎকারটি শোনার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের জ্যাকেট বদলে ফেলেছেন এবং পোশাক–পরিচ্ছদে আরও সতর্ক হচ্ছেন।