Hi

০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় আসছেন জোবাইদা রহমান

লন্ডন থেকে ঢাকায় আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছানোয় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে জোবাইদা রহমান ও তাদের মেয়ে জায়মা রহমান ঢাকায় আসছেন বলে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

একই সঙ্গে জানা গেছে, কাতার থেকে পাঠানো একটি বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে শুক্রবারই খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসকসহ মোট ১৬ জনের একটি বিশেষায়িত মেডিকেল টিম থাকবেন বলে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ও বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

টানা ১২ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ৮ দিন ধরে তিনি সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। চিকিৎসক দল জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা এখনো একই রকম সংকটাপন্ন। উন্নতি বা অবনতির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। হৃদযন্ত্র, লিভার, কিডনি ও ফুসফুস—এই চারটি অঙ্গের জটিলতা সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। কোনো একটি সমস্যার সামান্য উন্নতি ঘটলে অন্য কোনো জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে, যার কারণে সামগ্রিকভাবে তার অবস্থা উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়ে গেছে। বুধবার রাতে তার ফুসফুসে স্বাভাবিক বাতাস চলাচল নিশ্চিতে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন ব্যবহার করা হয় এবং একই দিনে কিডনির কার্যক্রম সচল রাখতে ডায়ালাইসিসও করা হয়।

বুধবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি হাসপাতালে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন। দলীয় সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সার্বিক জটিলতা বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হচ্ছে।

২৩ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকরা তার অবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। ২৭ নভেম্বর থেকে সিসিইউতে নেওয়ার পর তার অবস্থার ওঠানামা আরও বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকদের ডাকে তিনি কখনো কখনো সাড়া দিলেও এটিকে আশানুরূপ উন্নতি হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। খালেদা জিয়ার বিভিন্ন শারীরিক প্যারামিটার এখনো অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে বুধবার দুপুরে হাসপাতালে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে যান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি জানান, খালেদা জিয়া তার ডাকে ইশারায় সালামের জবাব দিয়েছেন, যদিও সেটি খুবই ক্ষীণ প্রতিক্রিয়া ছিল।

সমগ্র পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থা যেমন সংকটাপন্ন, তেমনি দ্রুত বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। জোবাইদা রহমান ও জায়মা রহমানের ঢাকায় আসাকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সবাই এখন অপেক্ষায় আছেন—চিকিৎসকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় আসছেন জোবাইদা রহমান

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

লন্ডন থেকে ঢাকায় আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছানোয় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে জোবাইদা রহমান ও তাদের মেয়ে জায়মা রহমান ঢাকায় আসছেন বলে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

একই সঙ্গে জানা গেছে, কাতার থেকে পাঠানো একটি বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে শুক্রবারই খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসকসহ মোট ১৬ জনের একটি বিশেষায়িত মেডিকেল টিম থাকবেন বলে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ও বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

টানা ১২ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ৮ দিন ধরে তিনি সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। চিকিৎসক দল জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা এখনো একই রকম সংকটাপন্ন। উন্নতি বা অবনতির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। হৃদযন্ত্র, লিভার, কিডনি ও ফুসফুস—এই চারটি অঙ্গের জটিলতা সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। কোনো একটি সমস্যার সামান্য উন্নতি ঘটলে অন্য কোনো জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে, যার কারণে সামগ্রিকভাবে তার অবস্থা উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়ে গেছে। বুধবার রাতে তার ফুসফুসে স্বাভাবিক বাতাস চলাচল নিশ্চিতে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন ব্যবহার করা হয় এবং একই দিনে কিডনির কার্যক্রম সচল রাখতে ডায়ালাইসিসও করা হয়।

বুধবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি হাসপাতালে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন। দলীয় সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সার্বিক জটিলতা বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হচ্ছে।

২৩ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকরা তার অবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। ২৭ নভেম্বর থেকে সিসিইউতে নেওয়ার পর তার অবস্থার ওঠানামা আরও বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকদের ডাকে তিনি কখনো কখনো সাড়া দিলেও এটিকে আশানুরূপ উন্নতি হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। খালেদা জিয়ার বিভিন্ন শারীরিক প্যারামিটার এখনো অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে বুধবার দুপুরে হাসপাতালে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে যান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি জানান, খালেদা জিয়া তার ডাকে ইশারায় সালামের জবাব দিয়েছেন, যদিও সেটি খুবই ক্ষীণ প্রতিক্রিয়া ছিল।

সমগ্র পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থা যেমন সংকটাপন্ন, তেমনি দ্রুত বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। জোবাইদা রহমান ও জায়মা রহমানের ঢাকায় আসাকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সবাই এখন অপেক্ষায় আছেন—চিকিৎসকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।