লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে সবুজ ইসলাম (৩০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার গভীর রাতে ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিএসএফ যুবকের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানিয়েছে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
নিহত সবুজ পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের পঁচাভান্ডার গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির সূত্র জানায়, সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৬৪ এর ৫ নম্বর উপপিলারের কাছে বুধবার গভীর রাতে বাংলাদেশ ও ভারতের ৮–১০ জন গরু পারাপারকারী গরু আনার চেষ্টা করছিল। তারা ভারতের চেনাকাটা এলাকার প্রায় ৩০ গজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে ১৬৯ কোচবিহার রাণীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের টহলদল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে সবুজ ইসলাম ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
রাতেই বিষয়টি জানতে পারে বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২) এর শমসেরনগর ক্যাম্প। টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকে আহ্বান জানায়।
পরে সীমান্তের কাছাকাছি স্থানে প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় দেশের ১০ জন করে প্রতিনিধি অংশ নেন। বিজিবি বৈঠকে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং লাশ ফেরত চাইলে বিএসএফ জানায়— মৃতদেহ স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষ হলে লাশ বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হবে।
জগতবেড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য অহেদ আলী জানান, রাত ৩টার দিকে বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার তাকে ফোন করে সবুজের মৃত্যুর খবর দেন। সকালে তিনি সবুজের বাড়িতে গিয়ে দেখেন তার পরিবার উপস্থিত নেই; মা ও স্ত্রী ঘটনাস্থলে বা থানায় গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা ঘটনাটির কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছি। বিএসএফ জানিয়েছে, প্রক্রিয়া শেষে লাশ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে ব্যাটালিয়ন পর্যায়েও পতাকা বৈঠক হবে।”
সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনার পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই এলাকায় গরু পাচার রোধে বিএসএফের কঠোর অবস্থান আগেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটিয়েছে, তবে এবার গোলাগুলির মাত্রা ছিল বেশি।
জেলা প্রতিনিধি,জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ। 








