Hi

০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুরে নবীন প্রার্থী সাঈদী পুত্রদের নির্বাচনি লড়াই ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর জেলার দুটি আসন পিরোজপুর-১ ও পিরোজপুর-২ নিয়ে জেলার ভোটার এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে। এই দুই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নপ্রাপ্ত নবীন প্রার্থী হচ্ছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলে—পিরোজপুর-১ আসনে মাসুদ সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ আসনে শামীম সাঈদী। বাবার পরিচয় ও রাজনৈতিক পরিচিতি থাকায় তারা ইতোমধ্যেই ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এই দুই আসনে তাদের পথ সুগম হবে না; রয়েছে শক্তিশালী হেভিওয়েট প্রার্থীদের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) আসনে মাসুদ সাঈদীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারের সঙ্গে। এছাড়া বিএনপি থেকে কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক আহ্বায়ক ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, কেন্দ্রীয় নেত্রী এলিজা জামান এবং বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন। এনসিপির জেলা সমন্বয়ক ও নবাগত প্রার্থী আল মামুন খানও মাঠে গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী, নেছারাবাদ) আসনে শামীম সাঈদী মাঠে সুবিধা পাচ্ছেন, কারণ জামায়াত এই আসনে একক প্রার্থী দিয়েছে। তবে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া আহমদ সুমন মঞ্জুরবিরোধী গ্রুপের অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং এনসিপির প্রার্থী শামস ইসতিয়াক রহমানও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা প্রচারণা-সভা-সমাবেশে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এখানে বিএনপির প্রভাবশালী প্রার্থী রুহুল আমীন দুলালের পক্ষে বড় সভা-সমাবেশ চললেও, এনসিপির তরুণ প্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. শামীম হামিদী মাঠ ছাড়েননি। ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখা’ মার্কায় ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীও নির্বাচনি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন।

জেলা সমীক্ষায় দেখা গেছে, জামায়াত একক প্রার্থী ঘোষণা করায় নতুন প্রার্থী সাঈদী পুত্রদের পরিচিতি ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সঙ্গে তুলনায় তাদের প্রচারণায় সুবিধা রয়েছে। ফলে পিরোজপুর-১ ও পিরোজপুর-২ আসনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি কার্যক্রম সবসময় সরগরম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

পিরোজপুরে নবীন প্রার্থী সাঈদী পুত্রদের নির্বাচনি লড়াই ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা

আপডেট সময় : ০৬:০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর জেলার দুটি আসন পিরোজপুর-১ ও পিরোজপুর-২ নিয়ে জেলার ভোটার এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে। এই দুই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নপ্রাপ্ত নবীন প্রার্থী হচ্ছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলে—পিরোজপুর-১ আসনে মাসুদ সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ আসনে শামীম সাঈদী। বাবার পরিচয় ও রাজনৈতিক পরিচিতি থাকায় তারা ইতোমধ্যেই ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এই দুই আসনে তাদের পথ সুগম হবে না; রয়েছে শক্তিশালী হেভিওয়েট প্রার্থীদের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) আসনে মাসুদ সাঈদীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারের সঙ্গে। এছাড়া বিএনপি থেকে কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক আহ্বায়ক ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, কেন্দ্রীয় নেত্রী এলিজা জামান এবং বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন। এনসিপির জেলা সমন্বয়ক ও নবাগত প্রার্থী আল মামুন খানও মাঠে গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী, নেছারাবাদ) আসনে শামীম সাঈদী মাঠে সুবিধা পাচ্ছেন, কারণ জামায়াত এই আসনে একক প্রার্থী দিয়েছে। তবে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া আহমদ সুমন মঞ্জুরবিরোধী গ্রুপের অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং এনসিপির প্রার্থী শামস ইসতিয়াক রহমানও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা প্রচারণা-সভা-সমাবেশে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এখানে বিএনপির প্রভাবশালী প্রার্থী রুহুল আমীন দুলালের পক্ষে বড় সভা-সমাবেশ চললেও, এনসিপির তরুণ প্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. শামীম হামিদী মাঠ ছাড়েননি। ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখা’ মার্কায় ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীও নির্বাচনি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন।

জেলা সমীক্ষায় দেখা গেছে, জামায়াত একক প্রার্থী ঘোষণা করায় নতুন প্রার্থী সাঈদী পুত্রদের পরিচিতি ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সঙ্গে তুলনায় তাদের প্রচারণায় সুবিধা রয়েছে। ফলে পিরোজপুর-১ ও পিরোজপুর-২ আসনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি কার্যক্রম সবসময় সরগরম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।