রাজশাহীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। জেলা ও মহানগর কমিটির দুই শীর্ষ নেতার টানাপোড়েন এতটাই তীব্র হয়েছে যে তা সাধারণ কর্মীরাও হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছেন। দলীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়া, একে অপরের বিরুদ্ধে মশাল মিছিল, দেয়ালে দেয়ালে কটাক্ষ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল এখন অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ওপেন সিক্রেট।
অস্থির এমন পরিবেশের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে রাজশাহীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণার ঘটনা। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও এনসিপির জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক সদস্য মোতালেব হোসেন।
তার অভিযোগ, জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার না করায় বাধ্য হয়েই তিনি এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, গত ২৯ নভেম্বর যে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়, সেখানে সাইফুল ইসলামকে জেলা কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয়। অথচ তার বিরুদ্ধে আওয়ামী দোসর হওয়ার অভিযোগ তুলে আগে থেকেই একটি পক্ষ সরব ছিল। সেই ক্ষোভ আরও আচমকা বেড়ে ওঠে যখন জানা যায়, তাকে এনসিপিতে নিয়ে আসা এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছেন দলটির বিভাগীয় সংগঠক ইমরান ইমন।
ফেসবুক পোস্টে মোতালেব হোসেন অভিযোগ করেন, সাইফুল ইসলামের বিষয়টি তিনি বারবার জানানোর পরও সারজিস আলম কোনো পদক্ষেপ নেননি। তার ভাষ্য, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সারজিস আলম নিজেই বিষয়টির সঙ্গে জড়িত। তাই রাজশাহীর মাটি থেকে তিনি সারজিস আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছেন বলে তিনি লেখেন—সেই পোস্ট মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
পরে যোগাযোগ করা হলে মোতালেব হোসেন জানান, সারজিস আলমের বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নিয়েছেন। সাইফুল ইসলামের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না এলে রাজশাহী জেলায় এনসিপিকেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলেও এনসিপির রাজশাহী বিভাগীয় সংগঠক ইমরান ইমনকে ফোনে পাওয়া যায়নি। সারজিস আলমের মোবাইলও বন্ধ থাকায় তাদের প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনাটি এখনো একতরফা অভিযোগের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। এদিকে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝেও উদ্বেগ বিরাজ করছে, কারণ যে সংকট দীর্ঘদিন চাপা ছিল, তা এখন প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হয়ে দলের ভবিষ্যৎ সংগঠনগত স্থিতি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ রিপোর্ট 








