Hi

০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫’–এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, “আমরা নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছি জুলাই ‘গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’। গণভবনের স্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রাণ হারানো তরুণদের স্মরণে এই জাদুঘর স্থাপন করা হবে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রতীক হিসেবে এবং আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি হবে একটি স্বতন্ত্র জাদুঘর। সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে আরও কিছু আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। খুব দ্রুতই অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আমরা কাজ করব।”

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়াও নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর ধরে আলোচনায় থাকা এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন আরও জোরদার হবে।

“এই আইন কার্যকর হলে আদালতের বিচারকদের বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাবিষয়ক সব বিষয় সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে আসবে,” বলেন আসিফ নজরুল। তিনি আরও যোগ করেন, “সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব বাজেট ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থাকবে। অর্থ উপদেষ্টা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে পরবর্তী ধাপে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।”

দুদক অধ্যাদেশের নীতিগত অনুমোদন

সভায় আরও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশের খসড়ায়। নতুন বিধানে বলা হয়েছে—বাংলাদেশে অবস্থানকালে কেউ যদি অন্য দেশে দুর্নীতি করে, তাহলেও দুদক সেই অপরাধের তদন্ত ও বিচার করতে পারবে।

তাছাড়া, ‘জ্ঞাত আয়’ শব্দের সংজ্ঞা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—এটি কেবল বৈধ আয়কেই বোঝাবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দুদকের বিশেষ আদালত গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগে সাত সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারক। এ ছাড়া দুদকের তদন্ত, অনুসন্ধান ও এজাহার দায়েরের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫’–এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, “আমরা নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছি জুলাই ‘গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’। গণভবনের স্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রাণ হারানো তরুণদের স্মরণে এই জাদুঘর স্থাপন করা হবে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রতীক হিসেবে এবং আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি হবে একটি স্বতন্ত্র জাদুঘর। সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে আরও কিছু আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। খুব দ্রুতই অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আমরা কাজ করব।”

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়াও নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর ধরে আলোচনায় থাকা এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন আরও জোরদার হবে।

“এই আইন কার্যকর হলে আদালতের বিচারকদের বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাবিষয়ক সব বিষয় সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে আসবে,” বলেন আসিফ নজরুল। তিনি আরও যোগ করেন, “সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব বাজেট ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থাকবে। অর্থ উপদেষ্টা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে পরবর্তী ধাপে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।”

দুদক অধ্যাদেশের নীতিগত অনুমোদন

সভায় আরও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশের খসড়ায়। নতুন বিধানে বলা হয়েছে—বাংলাদেশে অবস্থানকালে কেউ যদি অন্য দেশে দুর্নীতি করে, তাহলেও দুদক সেই অপরাধের তদন্ত ও বিচার করতে পারবে।

তাছাড়া, ‘জ্ঞাত আয়’ শব্দের সংজ্ঞা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—এটি কেবল বৈধ আয়কেই বোঝাবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দুদকের বিশেষ আদালত গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগে সাত সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারক। এ ছাড়া দুদকের তদন্ত, অনুসন্ধান ও এজাহার দায়েরের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে।