বরিশালের বাবুগঞ্জে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে হঠাৎ করেই স্থানীয় জনতার ক্ষোভ ফেটে পড়ে তার দিকে। মুহূর্তের মধ্যে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, আর জনতার তোপের মুখে অসহায় হয়ে পড়েন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ।
রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সাধারণ মানুষ ছত্রভঙ্গ হয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় ব্যারিস্টার ফুয়াদ স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন— সেতুর কাজ নাকি চাঁদা দাবি করার কারণে স্থগিত ছিল। এই মন্তব্য ক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তার চারদিকে জড়ো হতে থাকে অসন্তুষ্ট মানুষ। শুরু হয় তীব্র স্লোগান—
“ফুয়াদের দুই গালে জুতা মারো তালে,
ফুয়াদের চামড়া তুলে নেব আমরা।”
এতটা হট্টগোলের মধ্যে কয়েকজন নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ফুয়াদকে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় তিনি দ্রুত গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, আর পেছন থেকে জনতা ক্রমাগত স্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি গাড়িতে উঠে সেখান থেকে দ্রুত সরে যান।
ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। তাকে চলে যেতে দেখেই স্থানীয় বাসিন্দারা একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। তাদের অভিযোগ— ব্যারিস্টার ফুয়াদ মিথ্যা তথ্য দিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা, কালাম, জানান— “ফুয়াদ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছিলেন, তাই এলাকাবাসী তাকে প্রতিহত করেছে।”
ঘটনাস্থলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় শুরু হয় অনলাইনে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন—
“একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আদর্শগত মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তাকে ঘিরে ‘চামড়া তুলে নেব’ বা ‘জুতা মারো’ ধরনের স্লোগান কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক আচরণ নয়।”
তিনি আরও বলেন— রাজনীতিতে দ্বিমত থাকতেই পারে, কিন্তু যুক্তির বদলে শারীরিক হুমকি বা অশালীন আক্রমণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
পুরো ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনতার ক্ষোভ, ফুয়াদের মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল— সব মিলিয়ে বাবুগঞ্জে দিনভর ছিল তীব্র উত্তেজনা।
জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ রিপোর্ট 








