হলিউড অভিনেত্রী ও অস্কারজয়ী কেট উইন্সলেট তরুণ অভিনেত্রীদের মধ্যে প্লাস্টিক সার্জারির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অনেক তরুণ অভিনয়শিল্পী ইনস্টাগ্রামে লাইক পাওয়ার জন্য নিখুঁত চেহারার পেছনে অন্ধভাবে দৌড়াচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক।
উইন্সলেট বলেন, কারও আত্মসম্মান যদি পুরোপুরি চেহারার ওপর নির্ভর করে, তা ভয়ের। তিনি লক্ষ্য করেছেন, লাল গালিচায় বিভিন্ন আকৃতির এবং নিজেদের মতো সাজানো অভিনেত্রীদের পাশাপাশি এমন অনেককেও দেখা যায়, যারা ওজন কমানোর ওষুধ নিচ্ছেন। কেউ নিজের মতো থাকতে চাইছেন, আবার কেউ যেভাবেই হোক নিজেকে বদলে ফেলতে চাইছেন।
তিনি আরও বলেন, এই প্রবণতা শুধু অভিনেত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ নারীরাও বোটক্স বা ঠোঁটে ফিলার নেওয়ার জন্য অর্থ সঞ্চয় করছেন। তিনি বলেন, নিজের শরীরের প্রতি এই অবহেলা সত্যিই ভয়ঙ্কর। তিনি জানান, তার সবচেয়ে ভালো লাগে যখন তার বয়স বোঝা যায়, এবং তিনি পরিচিত এমন অনেক নারীকে দেখেছেন যারা ৭০ বছরের বেশি হলেও নিজের সৌন্দর্য ধরে রেখেছেন।
‘টাইটানিক’-এর সাফল্যের পর কেট উইন্সলেট যে বডি-শেমিংয়ের মুখোমুখি হয়েছেন, তারও স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, একটি পুরস্কার মৌসুমে উপস্থাপক রেড কার্পেটে তার পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন, যেন এই ধরনের আচরণ শুধুমাত্র তার জন্য নয়, বরং যারা এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হন তাদের পক্ষ থেকেও বলা যায়।
উইন্সলেট আরও বলেন, অভিনয় নিয়ে পড়ার সময়ও তাকে বলা হয়েছিল যেন ‘মোটা’ মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য রাজি হন। কিন্তু ‘টাইটানিক’-এর পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। মানুষ সিনেমার শেষ দৃশ্য নিয়েও তাকে বিদ্রূপ করত, বলত রোজ এত মোটা ছিল যে জ্যাক দরজার ওপর উঠতে পারেনি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি মোটেও মোটা ছিলেন না। এই অভিজ্ঞতা তরুণী হিসেবে তার অনিশ্চয়তা এবং ভয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি এটিকে নিছক বুলিং নয়, বরং সীমা ছাড়ানো নির্যাতন বলে বর্ণনা করেছেন।
কেট উইন্সলেটের এই মন্তব্য তরুণী অভিনেত্রীদের মধ্যে স্বাভাবিক সৌন্দর্য এবং আত্মসম্মানের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে, একই সঙ্গে প্লাস্টিক সার্জারির অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য সানডে টাইমস
বিনোদন ডেস্ক 








