Hi

০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিবিয়া থেকে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০৯ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন

লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত দ্বিতীয় চার্টার ফ্লাইট

লিবিয়া সরকারের সহযোগিতা ও ত্রিপলিতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ত্রিপলি থেকে ছাড়ে বিশেষ চার্টার ফ্লাইটটি, যা শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

এটি লিবিয়া সরকারের সহায়তায় পরিচালিত দ্বিতীয় চার্টার ফ্লাইট, এর আগে ৯ অক্টোবর প্রথম দফায় একই সংখ্যক (৩০৯ জন) বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়।


দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ প্রত্যাবাসন

ত্রিপলিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার দূতাবাস প্রাঙ্গণে নিজ হাতে অভিবাসীদের বিদায় জানান। এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়া এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক নিবন্ধিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের জন্য দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত ৯ অক্টোবর প্রথম দফায় ৩০৯ জন এবং এবার দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০৯ জনকে দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায়।


মানবপাচার প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির আহ্বান

বিদায়কালে রাষ্ট্রদূত ফেরত যাওয়া অভিবাসীদের উদ্দেশে বলেন, দেশে ফিরে মানবপাচার প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখুন। অনিয়মিত উপায়ে বিদেশ যাত্রা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনে, তা নিজেরা যেমন জানেন, অন্যদেরও জানাতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, প্রত্যেক নাগরিক দেশের সম্পদ। তাই ভবিষ্যতে কেউ যেন অবৈধ পথে বিদেশে না যায়। বরং বৈধ উপায়ে, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে দেশের মর্যাদা ও উন্নয়নে অবদান রাখুক।

রাষ্ট্রদূত দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং এ বিষয়ে দূতাবাসের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।


লিবিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা

রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, লিবিয়া সরকার ও বাংলাদেশের দূতাবাসের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ফলেই এই নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


পরবর্তী ধাপ: আরও তিন শতাধিক অভিবাসীর প্রত্যাবাসন

দূতাবাস জানিয়েছে, দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করা বাংলাদেশি নাগরিকরা আগেই দূতাবাসে আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে দূতাবাস লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় বহির্গমন ছাড়পত্র, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে।

একই প্রক্রিয়ায় আগামী ৩০ অক্টোবর লিবিয়ার মিসরাতা ও ত্রিপলি থেকে আরও তিন শতাধিক নিবন্ধিত বাংলাদেশি অভিবাসীকে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে।


দূতাবাসের এই উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনই নয়, বরং মানবিকতা, কূটনৈতিক সদিচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের এক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়া থেকে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০৯ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন

আপডেট সময় : ১০:১৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

লিবিয়া সরকারের সহযোগিতা ও ত্রিপলিতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ত্রিপলি থেকে ছাড়ে বিশেষ চার্টার ফ্লাইটটি, যা শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

এটি লিবিয়া সরকারের সহায়তায় পরিচালিত দ্বিতীয় চার্টার ফ্লাইট, এর আগে ৯ অক্টোবর প্রথম দফায় একই সংখ্যক (৩০৯ জন) বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়।


দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ প্রত্যাবাসন

ত্রিপলিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার দূতাবাস প্রাঙ্গণে নিজ হাতে অভিবাসীদের বিদায় জানান। এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়া এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক নিবন্ধিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের জন্য দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত ৯ অক্টোবর প্রথম দফায় ৩০৯ জন এবং এবার দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০৯ জনকে দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায়।


মানবপাচার প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির আহ্বান

বিদায়কালে রাষ্ট্রদূত ফেরত যাওয়া অভিবাসীদের উদ্দেশে বলেন, দেশে ফিরে মানবপাচার প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখুন। অনিয়মিত উপায়ে বিদেশ যাত্রা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনে, তা নিজেরা যেমন জানেন, অন্যদেরও জানাতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, প্রত্যেক নাগরিক দেশের সম্পদ। তাই ভবিষ্যতে কেউ যেন অবৈধ পথে বিদেশে না যায়। বরং বৈধ উপায়ে, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে দেশের মর্যাদা ও উন্নয়নে অবদান রাখুক।

রাষ্ট্রদূত দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং এ বিষয়ে দূতাবাসের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।


লিবিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা

রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, লিবিয়া সরকার ও বাংলাদেশের দূতাবাসের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ফলেই এই নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


পরবর্তী ধাপ: আরও তিন শতাধিক অভিবাসীর প্রত্যাবাসন

দূতাবাস জানিয়েছে, দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করা বাংলাদেশি নাগরিকরা আগেই দূতাবাসে আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে দূতাবাস লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় বহির্গমন ছাড়পত্র, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে।

একই প্রক্রিয়ায় আগামী ৩০ অক্টোবর লিবিয়ার মিসরাতা ও ত্রিপলি থেকে আরও তিন শতাধিক নিবন্ধিত বাংলাদেশি অভিবাসীকে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে।


দূতাবাসের এই উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনই নয়, বরং মানবিকতা, কূটনৈতিক সদিচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের এক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।