সচিবালয়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতা চালুর দাবিতে আজ ব্যাপক উত্তেজনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একজোট হয়ে দুপুরের পর থেকেই সচিবালয়ে হঠাৎ আন্দোলনে নামেন। এতে সচিবালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং দিনশেষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় তলায় এ বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বিকাল চারটা পর্যন্ত অর্থ উপদেষ্টার দপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং উপদেষ্টাকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময়ে পুরো তৃতীয় তলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে দুইটার দিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রায় তিন থেকে চার শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সচিবালয়ের মাঠে জড়ো হন। এরপর মিছিলসহকারে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দিকে রওনা হয়ে সরাসরি তৃতীয় তলায় অর্থ উপদেষ্টার অফিসের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। তারা হ্যান্ড মাইকে সচিবালয় ভাতা প্রদানের দাবিতে স্লোগান ও বক্তব্য দিতে থাকেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের নানান দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। রেশন সুবিধা বাস্তবায়নের দাবিতে আগে একবার অর্থ উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। সেই সময়ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশ্বাস পাওয়া গেলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একইভাবে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত মহার্ঘ্য ভাতাও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। নতুন পে-কমিশন গঠিত হলেও বর্তমান সরকারের মেয়াদে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না—অর্থ উপদেষ্টার এমন মন্তব্য আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।
একজন সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আন্দোলনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, সচিবালয়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাত গভীর পর্যন্ত কাজ করতে হয়। মন্ত্রী, উপদেষ্টা বা সচিবরা যতক্ষণ অফিসে থাকেন, ততক্ষণ বাধ্য হয়ে তাদেরও অফিসে থাকতে হয়। অথচ অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থার কর্মচারীরা পে-স্কেলের বাইরেও নানা ধরনের ভাতা পাচ্ছেন, কিন্তু সচিবালয়ভুক্ত কর্মচারীরা সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের দাবি, কাজের চাপ ও ঝুঁকি বিবেচনায় সচিবালয়ের সব কর্মচারীরই ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতা পাওয়া যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার।
দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন আরও তীব্র হতে থাকে। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, দাবি পূরণ না হলে তারা কর্মসূচি আরও কঠোর করবেন। তবে বিকাল পর্যন্ত আন্দোলনের মুখে অর্থ উপদেষ্টার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নি।
মো. লিমন 








