এক বছর ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরে সোনার দাম আউন্সপ্রতি চার হাজার ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালেও এই বৃদ্ধির ধারা চলতে পারে।
গোল্ডম্যান স্যাকসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছরের শেষ দিকে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৯০০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সোনায় যে পরিমাণ বিনিয়োগ করার কথা, তা হচ্ছে না। তবে বিনিয়োগের ধারা বাড়লে সোনার দাম হঠাৎ করে আরও বেশি বেড়ে যেতে পারে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাজারে এতটা চাহিদা বৃদ্ধি প্রয়োজন নেই—স্রেফ কিছু পরিমাণে সোনা কিনলেই দাম দ্রুত বাড়তে পারে। চলতি বছর ইতিমধ্যেই সোনার দাম ৬০ শতাংশ বেড়েছে। তবে তারা মনে করছে, চলতি বছর সেই হার এতটা বাড়বে না।
সোনার দাম বাড়ার দুটি প্রধান কারণ এখনও বিদ্যমান। প্রথমত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি সোনা কেনার ধারা অব্যাহত রাখছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ পশ্চিমাদের জব্দ করার পর বিশ্বের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলও সম্প্রতি এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। ডব্লিউজিসি’র “সেন্ট্রাল ব্যাংক গোল্ড রিজার্ভ সার্ভে ২০২৫” অনুযায়ী, ৪৩ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সোনার ভান্ডার বৃদ্ধি করতে আগ্রহী।
দ্বিতীয়ত, ফেডারেল রিজার্ভ নীতি সুদ হ্রাস করছে। ডিসেম্বর মাসেও সুদহার কমানো হয়েছে এবং বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ২০২৬ সালে আরও ৭৫ ভিত্তি পয়েন্ট হারে কমানো হতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে আরও ঝুঁকছেন।
ভূরাজনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ধাবিত করছে। ফলে ডলারভিত্তিক বন্ডের পরিবর্তে সোনায় বিনিয়োগকে বেশি নিরাপদ মনে হচ্ছে।
সোনার একটি বড় সুবিধা হলো, এর দাম সাধারণত কমে না। গোল্ডপ্রাইস ডট অর্গের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে সোনার দাম ৭১৮ শতাংশ বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে ১৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি এবং এক বছরে ৬১.৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনাকে একটি আকর্ষণীয় ও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে প্রমাণ করছে।
জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ রিপোর্ট 








