বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। নতুন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়েই তিনি জামায়াতকে একটি ‘দেশপ্রেমিক’ দল হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বিএনপির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন।
শনিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আখতারুজ্জামান। এক সময় জামায়াতের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই মুক্তিযোদ্ধা এদিন প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
জামায়াতে যোগ দেওয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপির বক্তব্যে কোনো ধারাবাহিকতা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার দাবি করছেন যে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে—যা সত্য নয়। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে, জামায়াতের বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।
জামায়াতকে দেশবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো দেশদ্রোহী দল নয়। দলটি মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে এবং তাদের গঠনতন্ত্রেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। সুতরাং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতকে কলঙ্কিত করার রাজনীতিতে তিনি থাকতে চান না।
বিএনপির অতীত রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জামায়াতকে রাজনৈতিক সঙ্গী না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তখন তার সেই পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়। আবার ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে অবস্থান নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে গেলেও পরবর্তী সময়ে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গেই জোট গঠন করে সরকার পরিচালনা করে—যা রাজনৈতিক দ্বিচারিতারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১৫ বছরে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে দাবি করে আখতারুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জামায়াতের নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে। তিনি শেখ হাসিনার সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিএনপি যেমন নির্যাতন, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছে, ঠিক একইভাবে জামায়াতও নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের মুখে পড়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ঐক্যের পরিবর্তে বিএনপি বিভক্তির রাজনীতি শুরু করেছে। এ ধরনের রাজনীতি দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনা করে আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপি এখন মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছে, এতে তার কোনো আপত্তি নেই। কারণ তিনিও একজন মুক্তিযোদ্ধা। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে—তাহলে এখন কেন জামায়াতকে নিয়ে বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে। কার স্বার্থে বিএনপি এই রাজনীতি করছে, সেটাই বড় প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্ষমতার রাজনীতির সমালোচনা করে সাবেক এই এমপি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপির নেতারা অতিরিক্ত মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই অস্থিরতা ও ক্ষমতালোভই দলটির রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিন নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। সে সময় ওই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ।
জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ রিপোর্ট 








