Hi

০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটিপতি হওয়া কি এখনও স্বপ্ন? মাসে ১৪ হাজার টাকা জমিয়ে হতে পারেন কোটিপতি

একসময় দেশে কোটিপতি হওয়া মানেই ছিল সমাজে আলাদা পরিচিতি। কারও আর্থিক অবস্থার শক্তি বোঝাতে বলা হতো—তিনি কোটিপতি। তখন কোটি টাকা ছিল ধনসম্পদের বড় মাইলফলক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাস্তবতা বদলেছে। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও নগর জীবনের ব্যয় বৃদ্ধির ফলে আজ ঢাকায় বহু ফ্ল্যাটের দামই এক কোটি টাকার বেশি। তবু সীমিত আয়ের মানুষের কাছে কোটিপতি হওয়া এখনও একটি বড় আর্থিক অর্জন ও নিরাপত্তার প্রতীক।

এই বাস্তবতায় সঞ্চয়কে সহজ ও পরিকল্পিত করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) চালু রেখেছে ‘কোটিপতি স্কিম’। এই স্কিমে নিয়মিত মাসিক সঞ্চয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে এক কোটি টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কোটিপতি স্কিম কীভাবে কাজ করে
ইস্টার্ন ব্যাংকের কোটিপতি স্কিম মূলত ডিপিএস ও এফডিআরের সংমিশ্রণ। গ্রাহক চাইলে শুরুতেই এককালীন এক লাখ টাকা জমা দিতে পারেন অথবা কোনো প্রাথমিক জমা ছাড়াই কেবল মাসিক কিস্তির মাধ্যমে সঞ্চয় শুরু করতে পারেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে জমা ও সুদ মিলিয়ে গ্রাহক এক কোটি টাকা পান।

এই স্কিমের মেয়াদ ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত। গ্রাহকের সুবিধা অনুযায়ী ৫, ৮, ১০, ১২, ১৫, ১৮ ও ২০ বছর—এই সাতটি মেয়াদের যেকোনোটি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মেয়াদভেদে কত টাকা জমাতে হবে
যারা দ্রুত কোটিপতি হতে চান, তারা স্বল্পমেয়াদি স্কিম বেছে নিতে পারেন। যেমন, ৫ বছর মেয়াদে স্কিম নিলে এককালীন এক লাখ টাকা প্রাথমিক জমা থাকলে মাসে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। প্রাথমিক জমা না দিলে মাসিক কিস্তি দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা।

৮ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া মাসিক কিস্তি হবে প্রায় ৭১ হাজার টাকা এবং এক লাখ টাকা জমা থাকলে কিস্তি কমে হবে প্রায় ৬৯ হাজার ৬০০ টাকা।

১০ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া মাসিক কিস্তি হবে প্রায় ৭১ হাজার টাকা, আর প্রাথমিক জমাসহ কিস্তি হবে প্রায় ৫০ হাজার ১০০ টাকা।

১২ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া মাসে প্রায় ৩৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং জমাসহ প্রায় ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা কিস্তি দিতে হবে।

১৫ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া কিস্তি হবে প্রায় ২৬ হাজার ৩০০ টাকা, আর জমাসহ হবে প্রায় ২৫ হাজার ৩০০ টাকা।

১৮ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া মাসিক কিস্তি দাঁড়াবে প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং জমাসহ প্রায় ১৭ হাজার ৬০০ টাকা।

সবচেয়ে দীর্ঘ ২০ বছর মেয়াদে কোটিপতি হতে চাইলে প্রাথমিক জমা ছাড়া মাসে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০ টাকা এবং এক লাখ টাকা জমা দিলে মাসে প্রায় ১৪ হাজার টাকা সঞ্চয় করলেই হবে।

স্কিমের বাড়তি সুবিধা
ইস্টার্ন ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকেই এই কোটিপতি স্কিম খোলা যায়। একজন গ্রাহক চাইলে একসঙ্গে একাধিক কোটিপতি স্কিম চালু করতে পারেন। ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব থাকলে সেই হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাসিক কিস্তি কেটে নেওয়ার সুবিধাও রয়েছে, ফলে কিস্তি দিতে ভুল হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

এ ছাড়া এই স্কিমের বিপরীতে জমার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়, যা জরুরি প্রয়োজনে বড় সহায়তা দিতে পারে।

হিসাব খুলতে কী লাগবে
এই স্কিম খুলতে সাধারণ ব্যাংক হিসাবের মতোই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাহকের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র, নমিনির ছবি ও এনআইডি, ব্যাংকের বিদ্যমান হিসাবধারী একজন পরিচয়দানকারী এবং নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও ঠিকানাও দিতে হয়।

মেয়াদের আগে হিসাব ভাঙলে কী হবে
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—মেয়াদের আগে হিসাব ভাঙলে কী হবে। ইস্টার্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এক বছরের আগে এই হিসাব ভেঙে ফেললে শুধু জমাকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।

এক থেকে তিন বছরের মধ্যে ভাঙলে সঞ্চয়ী হিসাবের সুদ প্রযোজ্য হবে। আর তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পর হিসাব ভাঙলে কোটিপতি স্কিমের নির্ধারিত সুদের চেয়ে ২ শতাংশ কম হারে সুদ পাওয়া যাবে।

শেষ কথা
আর্থিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঞ্চয়ের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো—খরচের আগে সঞ্চয়। অর্থাৎ মাসে বা বছরে যে অঙ্কের টাকা সঞ্চয় করতে চান, সেটি আগে আলাদা করে রেখে তারপর বাকি টাকা দিয়ে খরচের পরিকল্পনা করা। খরচ শেষে যা বাঁচবে তা সঞ্চয় করার চিন্তা করলে লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।

পরিকল্পিত সঞ্চয় ও ধৈর্য থাকলে সীমিত আয়ের মানুষও ধাপে ধাপে কোটিপতি হওয়ার পথে এগোতে পারেন—ইস্টার্ন ব্যাংকের কোটিপতি স্কিম সেই পথকে কিছুটা সহজ করে দিতে পারে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটিপতি হওয়া কি এখনও স্বপ্ন? মাসে ১৪ হাজার টাকা জমিয়ে হতে পারেন কোটিপতি

আপডেট সময় : ০১:২৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

একসময় দেশে কোটিপতি হওয়া মানেই ছিল সমাজে আলাদা পরিচিতি। কারও আর্থিক অবস্থার শক্তি বোঝাতে বলা হতো—তিনি কোটিপতি। তখন কোটি টাকা ছিল ধনসম্পদের বড় মাইলফলক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাস্তবতা বদলেছে। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও নগর জীবনের ব্যয় বৃদ্ধির ফলে আজ ঢাকায় বহু ফ্ল্যাটের দামই এক কোটি টাকার বেশি। তবু সীমিত আয়ের মানুষের কাছে কোটিপতি হওয়া এখনও একটি বড় আর্থিক অর্জন ও নিরাপত্তার প্রতীক।

এই বাস্তবতায় সঞ্চয়কে সহজ ও পরিকল্পিত করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) চালু রেখেছে ‘কোটিপতি স্কিম’। এই স্কিমে নিয়মিত মাসিক সঞ্চয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে এক কোটি টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কোটিপতি স্কিম কীভাবে কাজ করে
ইস্টার্ন ব্যাংকের কোটিপতি স্কিম মূলত ডিপিএস ও এফডিআরের সংমিশ্রণ। গ্রাহক চাইলে শুরুতেই এককালীন এক লাখ টাকা জমা দিতে পারেন অথবা কোনো প্রাথমিক জমা ছাড়াই কেবল মাসিক কিস্তির মাধ্যমে সঞ্চয় শুরু করতে পারেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে জমা ও সুদ মিলিয়ে গ্রাহক এক কোটি টাকা পান।

এই স্কিমের মেয়াদ ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত। গ্রাহকের সুবিধা অনুযায়ী ৫, ৮, ১০, ১২, ১৫, ১৮ ও ২০ বছর—এই সাতটি মেয়াদের যেকোনোটি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মেয়াদভেদে কত টাকা জমাতে হবে
যারা দ্রুত কোটিপতি হতে চান, তারা স্বল্পমেয়াদি স্কিম বেছে নিতে পারেন। যেমন, ৫ বছর মেয়াদে স্কিম নিলে এককালীন এক লাখ টাকা প্রাথমিক জমা থাকলে মাসে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। প্রাথমিক জমা না দিলে মাসিক কিস্তি দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা।

৮ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া মাসিক কিস্তি হবে প্রায় ৭১ হাজার টাকা এবং এক লাখ টাকা জমা থাকলে কিস্তি কমে হবে প্রায় ৬৯ হাজার ৬০০ টাকা।

১০ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া মাসিক কিস্তি হবে প্রায় ৭১ হাজার টাকা, আর প্রাথমিক জমাসহ কিস্তি হবে প্রায় ৫০ হাজার ১০০ টাকা।

১২ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া মাসে প্রায় ৩৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং জমাসহ প্রায় ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা কিস্তি দিতে হবে।

১৫ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া কিস্তি হবে প্রায় ২৬ হাজার ৩০০ টাকা, আর জমাসহ হবে প্রায় ২৫ হাজার ৩০০ টাকা।

১৮ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া মাসিক কিস্তি দাঁড়াবে প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং জমাসহ প্রায় ১৭ হাজার ৬০০ টাকা।

সবচেয়ে দীর্ঘ ২০ বছর মেয়াদে কোটিপতি হতে চাইলে প্রাথমিক জমা ছাড়া মাসে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০ টাকা এবং এক লাখ টাকা জমা দিলে মাসে প্রায় ১৪ হাজার টাকা সঞ্চয় করলেই হবে।

স্কিমের বাড়তি সুবিধা
ইস্টার্ন ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকেই এই কোটিপতি স্কিম খোলা যায়। একজন গ্রাহক চাইলে একসঙ্গে একাধিক কোটিপতি স্কিম চালু করতে পারেন। ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব থাকলে সেই হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাসিক কিস্তি কেটে নেওয়ার সুবিধাও রয়েছে, ফলে কিস্তি দিতে ভুল হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

এ ছাড়া এই স্কিমের বিপরীতে জমার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়, যা জরুরি প্রয়োজনে বড় সহায়তা দিতে পারে।

হিসাব খুলতে কী লাগবে
এই স্কিম খুলতে সাধারণ ব্যাংক হিসাবের মতোই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাহকের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র, নমিনির ছবি ও এনআইডি, ব্যাংকের বিদ্যমান হিসাবধারী একজন পরিচয়দানকারী এবং নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও ঠিকানাও দিতে হয়।

মেয়াদের আগে হিসাব ভাঙলে কী হবে
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—মেয়াদের আগে হিসাব ভাঙলে কী হবে। ইস্টার্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এক বছরের আগে এই হিসাব ভেঙে ফেললে শুধু জমাকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।

এক থেকে তিন বছরের মধ্যে ভাঙলে সঞ্চয়ী হিসাবের সুদ প্রযোজ্য হবে। আর তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পর হিসাব ভাঙলে কোটিপতি স্কিমের নির্ধারিত সুদের চেয়ে ২ শতাংশ কম হারে সুদ পাওয়া যাবে।

শেষ কথা
আর্থিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঞ্চয়ের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো—খরচের আগে সঞ্চয়। অর্থাৎ মাসে বা বছরে যে অঙ্কের টাকা সঞ্চয় করতে চান, সেটি আগে আলাদা করে রেখে তারপর বাকি টাকা দিয়ে খরচের পরিকল্পনা করা। খরচ শেষে যা বাঁচবে তা সঞ্চয় করার চিন্তা করলে লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।

পরিকল্পিত সঞ্চয় ও ধৈর্য থাকলে সীমিত আয়ের মানুষও ধাপে ধাপে কোটিপতি হওয়ার পথে এগোতে পারেন—ইস্টার্ন ব্যাংকের কোটিপতি স্কিম সেই পথকে কিছুটা সহজ করে দিতে পারে।