মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান ক্লাং লামা এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। বিদেশি অধ্যুষিত ওই এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন দেশের মোট ৯০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় বসবাস ও বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুত্রজায়া সদর দপ্তরের এনফোর্সমেন্ট শাখার ৯৯ জন কর্মকর্তা এতে অংশ নেন। জনসাধারণের অভিযোগ ও টানা দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে মোট ১৩১ জনকে তল্লাশি করা হয়। তাদের মধ্যে ৮২ জন পুরুষ ও ৩৪ জন নারী বিদেশি নাগরিক এবং ১৫ জন মালয়েশিয়ান নাগরিক ছিলেন। যাচাই শেষে নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া, সোমালিয়া, গিনি-বিসাউ, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, মালি, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের নাগরিকদের মধ্য থেকে ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৯০ জনকে আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, আটক ব্যক্তিদের অনেকেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন এবং কেউ কেউ কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই দেশটিতে বসবাস করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দাতুক জাকারিয়া শাবান আরও জানান, অভিযানে আটক হওয়া কিছু বিদেশি খোলা জায়গা ও খাবারের দোকানকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন এবং ওই এলাকাটি গভীর রাত পর্যন্ত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এ ঘটনায় অভিযানের স্থানসংলগ্ন একটি রেস্তোরাঁর মালিকের বিরুদ্ধেও সাক্ষী সমন জারি করা হয়েছে।
আটক সব অবৈধ অভিবাসীকে প্রাথমিক তদন্ত শেষে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির আইন লঙ্ঘনকারী কোনো বিদেশির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ, আশ্রয় বা সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডেস্ক রিপোর্ট 








