Hi

০৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের নাম ছাড়াই ১৬ ডিসেম্বরকে ভারতের বিজয় হিসেবে উল্লেখ মোদির

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। এই দিনটি বাঙালি জাতির কাছে চূড়ান্ত বিজয়, গৌরব ও আত্মত্যাগের স্মারক। তবে এমন এক ঐতিহাসিক দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরকে ভারতের ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ওই পোস্টে বাংলাদেশের নাম বা বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের কথা সরাসরি কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, বিজয় দিবসে ভারত সেই সাহসী সেনাদের স্মরণ করছে, যাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগ ১৯৭১ সালে ভারতের জন্য এক ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করেছিল। তিনি বলেন, ওই সেনাদের দৃঢ় মনোবল ও নিঃস্বার্থ সেবা ভারতের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এবং তাদের সাহসিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।

মোদির এই বক্তব্যে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিষয়টি অনুল্লেখিত থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকের মতে, ১৬ ডিসেম্বর মূলত বাংলাদেশের বিজয় দিবস এবং এই বিজয়ের কেন্দ্রে রয়েছে বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধ।

এর আগে একই দিনে ভারতের সেনাবাহিনীও বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি আলাদা পোস্ট দেয়। সেখানে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা উল্লেখ করে জানায়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভাষায়, এই যৌথ সংগ্রামের মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও দাবি করে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো নৃশংসতা ও নির্যাতনের অবসান ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং এটি ছিল তাদের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।

মোদির বক্তব্য ও সেনাবাহিনীর পোস্টকে ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ১৬ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং এই বিজয়ের মালিকানা প্রশ্ন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসে এমন মন্তব্য দেশটির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের নাম ছাড়াই ১৬ ডিসেম্বরকে ভারতের বিজয় হিসেবে উল্লেখ মোদির

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। এই দিনটি বাঙালি জাতির কাছে চূড়ান্ত বিজয়, গৌরব ও আত্মত্যাগের স্মারক। তবে এমন এক ঐতিহাসিক দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরকে ভারতের ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ওই পোস্টে বাংলাদেশের নাম বা বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের কথা সরাসরি কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, বিজয় দিবসে ভারত সেই সাহসী সেনাদের স্মরণ করছে, যাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগ ১৯৭১ সালে ভারতের জন্য এক ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করেছিল। তিনি বলেন, ওই সেনাদের দৃঢ় মনোবল ও নিঃস্বার্থ সেবা ভারতের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এবং তাদের সাহসিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।

মোদির এই বক্তব্যে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিষয়টি অনুল্লেখিত থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকের মতে, ১৬ ডিসেম্বর মূলত বাংলাদেশের বিজয় দিবস এবং এই বিজয়ের কেন্দ্রে রয়েছে বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধ।

এর আগে একই দিনে ভারতের সেনাবাহিনীও বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি আলাদা পোস্ট দেয়। সেখানে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা উল্লেখ করে জানায়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভাষায়, এই যৌথ সংগ্রামের মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও দাবি করে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো নৃশংসতা ও নির্যাতনের অবসান ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং এটি ছিল তাদের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।

মোদির বক্তব্য ও সেনাবাহিনীর পোস্টকে ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ১৬ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং এই বিজয়ের মালিকানা প্রশ্ন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসে এমন মন্তব্য দেশটির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।