Hi

০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের বাসভবন ও অফিস প্রস্তুত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য রাজধানীর গুলশানে বাসভবন ও রাজনৈতিক কার্যালয় প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি গুলশান এভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন। ওই বাসার পাশেই ভাড়া করা বাসা ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একই এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের জন্য আলাদা চেম্বারও তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি গুলশানে আরও একটি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি নম্বর নতুন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে জাতীয় রিল–মেকিং প্রতিযোগিতা কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরছেন তারেক রহমান। তার আগমনকে ঘিরে দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ওই দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাকে সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত থাকবেন।

তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত গুলশান এভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসাটির একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়াকে এই বাসাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কয়েক মাস আগে বাসাটির দলিলপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু। বর্তমানে ওই বাসার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসার সামনে নিরাপত্তা ছাউনি বসানো হয়েছে এবং সড়কের সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীরা জানান, তারেক রহমান সেখানে অবস্থান করবেন বলেই এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চেয়ারপারসনের চেম্বারের পাশেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য একটি আলাদা চেম্বার তৈরি করা হয়েছে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তারেক রহমানের জন্য পৃথক চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে আগে থেকেই চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আলাদা চেম্বার রয়েছে।

গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি নম্বর চারতলা ভবনটি বিএনপির নতুন অফিস হিসেবে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এই ভবনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দোতলায় রয়েছে ব্রিফিং রুম এবং অন্যান্য তলায় বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবনটিতে একটি গবেষণা সেলও রয়েছে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছেন কবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের মানসপুত্র ও আধুনিক স্বনির্ভর রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা তারেক রহমান ঢাকার মাটিতে পা রাখবেন। তিনি বলেন, দলের সব প্রস্তুতি তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করেই নেওয়া হয়েছে এবং দেশের মানুষ যেমন প্রত্যাশা করছে, তেমনি বিএনপিও বিশ্বাস করে তিনি হারানো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন ও জিয়া উদ্দিন হায়দার, চেয়ারপারসনের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য সাইমুম পারভেজসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের বাসভবন ও অফিস প্রস্তুত

আপডেট সময় : ১০:১৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য রাজধানীর গুলশানে বাসভবন ও রাজনৈতিক কার্যালয় প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি গুলশান এভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন। ওই বাসার পাশেই ভাড়া করা বাসা ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একই এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের জন্য আলাদা চেম্বারও তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি গুলশানে আরও একটি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি নম্বর নতুন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে জাতীয় রিল–মেকিং প্রতিযোগিতা কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরছেন তারেক রহমান। তার আগমনকে ঘিরে দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ওই দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাকে সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত থাকবেন।

তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত গুলশান এভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসাটির একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়াকে এই বাসাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কয়েক মাস আগে বাসাটির দলিলপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু। বর্তমানে ওই বাসার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসার সামনে নিরাপত্তা ছাউনি বসানো হয়েছে এবং সড়কের সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীরা জানান, তারেক রহমান সেখানে অবস্থান করবেন বলেই এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চেয়ারপারসনের চেম্বারের পাশেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য একটি আলাদা চেম্বার তৈরি করা হয়েছে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তারেক রহমানের জন্য পৃথক চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে আগে থেকেই চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আলাদা চেম্বার রয়েছে।

গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি নম্বর চারতলা ভবনটি বিএনপির নতুন অফিস হিসেবে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এই ভবনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দোতলায় রয়েছে ব্রিফিং রুম এবং অন্যান্য তলায় বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবনটিতে একটি গবেষণা সেলও রয়েছে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছেন কবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের মানসপুত্র ও আধুনিক স্বনির্ভর রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা তারেক রহমান ঢাকার মাটিতে পা রাখবেন। তিনি বলেন, দলের সব প্রস্তুতি তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করেই নেওয়া হয়েছে এবং দেশের মানুষ যেমন প্রত্যাশা করছে, তেমনি বিএনপিও বিশ্বাস করে তিনি হারানো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন ও জিয়া উদ্দিন হায়দার, চেয়ারপারসনের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য সাইমুম পারভেজসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।