Hi

০৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয় দিবসে রাহুলের পোস্টেও নেই ‘বাংলাদেশ’

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করলেও সেই বক্তব্যে বাংলাদেশের নাম বা মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটের উল্লেখ রাখেননি ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া তার বার্তা নিয়ে তাই নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, বিজয় দিবসে তিনি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, যারা ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতের সীমান্ত রক্ষায় বীরত্ব, নিষ্ঠা ও অটল সংকল্পের পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেই যুদ্ধে সেনাদের সাহস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ ভারতবাসীর জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তবে তার এই পোস্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিবাহিনী কিংবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের কোনো উল্লেখ ছিল না। একই দিন সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্সে দেওয়া পোস্টে ১৯৭১ সালের যুদ্ধকে ভারতের ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরেন। সেখানেও বাংলাদেশের নাম বা মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত ছিল।

এর আগেও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ২০২৪ সালের বিজয় দিবসেও তিনি ১৯৭১ সালের যুদ্ধকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, যেখানে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা বলা হয়নি।

ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। পরবর্তী নয় মাস মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতার লক্ষ্যে সশস্ত্র সংগ্রাম চালান। ৩ ডিসেম্বর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যৌথ বাহিনী গঠন করে। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় স্বাক্ষরিত আত্মসমর্পণ দলিলে পাকিস্তানি বাহিনী ‘ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর’ কাছেই আত্মসমর্পণ করে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১১টি সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেওয়া কর্মকর্তারা। ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস ও পুলিশ বাহিনীর বহু সদস্যও যুদ্ধে অংশ নেন। নয় মাসের এই যুদ্ধে লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রাণ হারান, যেখানে ভারতের পক্ষের প্রাণহানি ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের শীর্ষ নেতাদের বিজয় দিবসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ইতিহাস ও বাংলাদেশের ভূমিকা উপেক্ষিত হয়েছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের যৌথ ইতিহাস ও দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা সামনে এসেছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

বিজয় দিবসে রাহুলের পোস্টেও নেই ‘বাংলাদেশ’

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করলেও সেই বক্তব্যে বাংলাদেশের নাম বা মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটের উল্লেখ রাখেননি ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া তার বার্তা নিয়ে তাই নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, বিজয় দিবসে তিনি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, যারা ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতের সীমান্ত রক্ষায় বীরত্ব, নিষ্ঠা ও অটল সংকল্পের পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেই যুদ্ধে সেনাদের সাহস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ ভারতবাসীর জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তবে তার এই পোস্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিবাহিনী কিংবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের কোনো উল্লেখ ছিল না। একই দিন সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্সে দেওয়া পোস্টে ১৯৭১ সালের যুদ্ধকে ভারতের ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরেন। সেখানেও বাংলাদেশের নাম বা মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত ছিল।

এর আগেও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ২০২৪ সালের বিজয় দিবসেও তিনি ১৯৭১ সালের যুদ্ধকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, যেখানে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা বলা হয়নি।

ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। পরবর্তী নয় মাস মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতার লক্ষ্যে সশস্ত্র সংগ্রাম চালান। ৩ ডিসেম্বর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যৌথ বাহিনী গঠন করে। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় স্বাক্ষরিত আত্মসমর্পণ দলিলে পাকিস্তানি বাহিনী ‘ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর’ কাছেই আত্মসমর্পণ করে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১১টি সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেওয়া কর্মকর্তারা। ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস ও পুলিশ বাহিনীর বহু সদস্যও যুদ্ধে অংশ নেন। নয় মাসের এই যুদ্ধে লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রাণ হারান, যেখানে ভারতের পক্ষের প্রাণহানি ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের শীর্ষ নেতাদের বিজয় দিবসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ইতিহাস ও বাংলাদেশের ভূমিকা উপেক্ষিত হয়েছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের যৌথ ইতিহাস ও দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা সামনে এসেছে।