Hi

১২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ক্লাসবিরতি

  • মো. লিমন
  • আপডেট সময় : ০১:০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৯৭ জন দেখেছে

দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে সহকারী শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই কর্মবিরতির প্রধান কারণ হলো দশম গ্রেডে বেতনসহ তাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া এবং শাহবাগে পুলিশের হামলার প্রতিবাদ।

শাহবাগে শিক্ষকদের ‘কলম বিরতি’ কর্মসূচির সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন এবং অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার পর শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আশ্রয় নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন প্রদান, উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা। উল্লেখযোগ্য যে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে, কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা এতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন।

কর্মবিরতির কারণে সারাদেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত।

সহকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তারা সরকারকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে তারা ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

এই কর্মবিরতি ও আন্দোলন মূলত শিক্ষকদের বেতন, পদোন্নতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি পূরণে কেন্দ্রিত। এর ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ক্লাসবিরতি

আপডেট সময় : ০১:০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে সহকারী শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই কর্মবিরতির প্রধান কারণ হলো দশম গ্রেডে বেতনসহ তাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া এবং শাহবাগে পুলিশের হামলার প্রতিবাদ।

শাহবাগে শিক্ষকদের ‘কলম বিরতি’ কর্মসূচির সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন এবং অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার পর শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আশ্রয় নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন প্রদান, উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা। উল্লেখযোগ্য যে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে, কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা এতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন।

কর্মবিরতির কারণে সারাদেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত।

সহকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তারা সরকারকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে তারা ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

এই কর্মবিরতি ও আন্দোলন মূলত শিক্ষকদের বেতন, পদোন্নতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি পূরণে কেন্দ্রিত। এর ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না।