Hi

১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নতুন হামলা: আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

TEHRAN, IRAN - JUNE 13: An excavator removes debris from a residential building that was destroyed in today's attack by Israel in Tehran, on June 13, 2025 in Tehran, Iran. Early this morning, Iran was hit by a series of Israeli airstrikes targeting military and nuclear sites, as well as top military officials. (Photo by Majid Saeedi/Getty Images)

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আবারও বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণ চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এতে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের আল-শাআফ এলাকায় দুটি পৃথক হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। নিহত ব্যক্তিরা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি দেখতে ফিরে গেলে দখলদার বাহিনী তাদের ওপর গুলি চালায়।

অন্যদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা কিছু যোদ্ধার ওপর গুলি চালিয়েছে যারা ‘হলুদ সীমারেখা’ অতিক্রম করে শুজাইয়া এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছিল। উল্লেখ্য, এই ‘হলুদ রেখা’টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী ৪ অক্টোবর নির্ধারিত হয়, যার পেছনে যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান করছে।

তবে গাজার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সীমারেখার অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকের মতে, পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মানচিত্র অনুযায়ী সীমানা চিহ্নিত করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

গাজা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এ পর্যন্ত অন্তত ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুধু গত রবিবারের ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৪২ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।

ইসরাইল দাবি করেছে, রাফা এলাকায় হামাস যোদ্ধাদের গুলিতে তাদের দুই সেনা নিহত হয় এবং এর প্রতিশোধ হিসেবেই হামলা চালানো হয়। তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, রাফার ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত অংশে তাদের কোনো ইউনিট সক্রিয় ছিল না। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ইসরাইল নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার অজুহাত তৈরি করছে।

হামাস জানায়, তারা এখন পর্যন্ত ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং নিহতদের মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে গাজা উপত্যকার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে তা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে ইসরাইল প্রথমে গাজায় মানবিক সাহায্য বন্ধের হুমকি দিলেও পরবর্তীতে জানায়, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহাল রাখছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক জানান, সাহায্য পাঠানো পুনরায় শুরু হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কত পরিমাণ সহায়তা পৌঁছেছে তা স্পষ্ট নয়।

এই হামলার ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে যে, চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পূর্ণাঙ্গ সংঘাত আবারও শুরু হতে পারে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নতুন হামলা: আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১০:৫০:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আবারও বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণ চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এতে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের আল-শাআফ এলাকায় দুটি পৃথক হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। নিহত ব্যক্তিরা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি দেখতে ফিরে গেলে দখলদার বাহিনী তাদের ওপর গুলি চালায়।

অন্যদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা কিছু যোদ্ধার ওপর গুলি চালিয়েছে যারা ‘হলুদ সীমারেখা’ অতিক্রম করে শুজাইয়া এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছিল। উল্লেখ্য, এই ‘হলুদ রেখা’টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী ৪ অক্টোবর নির্ধারিত হয়, যার পেছনে যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান করছে।

তবে গাজার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সীমারেখার অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকের মতে, পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মানচিত্র অনুযায়ী সীমানা চিহ্নিত করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

গাজা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এ পর্যন্ত অন্তত ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুধু গত রবিবারের ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৪২ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।

ইসরাইল দাবি করেছে, রাফা এলাকায় হামাস যোদ্ধাদের গুলিতে তাদের দুই সেনা নিহত হয় এবং এর প্রতিশোধ হিসেবেই হামলা চালানো হয়। তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, রাফার ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত অংশে তাদের কোনো ইউনিট সক্রিয় ছিল না। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ইসরাইল নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার অজুহাত তৈরি করছে।

হামাস জানায়, তারা এখন পর্যন্ত ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং নিহতদের মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে গাজা উপত্যকার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে তা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে ইসরাইল প্রথমে গাজায় মানবিক সাহায্য বন্ধের হুমকি দিলেও পরবর্তীতে জানায়, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহাল রাখছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক জানান, সাহায্য পাঠানো পুনরায় শুরু হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কত পরিমাণ সহায়তা পৌঁছেছে তা স্পষ্ট নয়।

এই হামলার ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে যে, চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পূর্ণাঙ্গ সংঘাত আবারও শুরু হতে পারে।